মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে এবার কারাগারে ঈদ করছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। যাদের মধ্যে দলটির প্রধান ও জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী। ফাঁসির দণ্ড নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর-১ কারাগারের কনডেম সেলে এবারের ঈদ করবেন মতিউর রহমান নিজামী। চলতি বছর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে বিচারিক আদালত।

তাছাড়া বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায় শেষ বারের মত অপেক্ষমান রয়েছে। ২০১০ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার একটি অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।পরে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়। জানা গেছে, অনুমতি পেলে ঈদের পরের দিন কারাগারে নিজামীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করবেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির দণ্ড নিয়ে এবারো কারাগারে ঈদ করছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর-১ কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদীর দায়ের করা আপিল শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১০ সালের ২৯ জুন বিশ্ব বরেণ্য এই কোরআন বিশ্লেষককে গ্রেফতার করা হয়। পরিবার সূত্র জানিয়েছে, অনুমতি পেলে ঈদের দিন বা এর পরের দিন কারাগারে সাঈদীর সঙ্গে দেখা করবেন পরিবারের সদস্যরা।

ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কারাগারের কনডেম সেলে এবারের ঈদ কাটাবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। গত বছরের ১৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয় যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ২০১০ সালের ২৯ জুন তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ ১২টি মামলা রয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কাশিমপুর-২ কারাগারের কনডেম সেলে এবারের ঈদ করছেন আরেক জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। ২০১১ সালের ১৩ই জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হন জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ে ৯০ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাপ্রকোষ্ঠে ঈদ করছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম। এবারের ঈদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে বন্দি রয়েছেন তিনি। গত বছরের ১৫ই জুলাই গোলাম আযমকে ওই দণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি আছেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। বর্তমানে তার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কাশিমপুর-১ কারাগারে আটক আছেন দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী। তাঁর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।

একই ধরনের মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হয়ে এবারের ঈদ করছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে। বর্তমানে তার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ঢাকা,কেএ ২৮ জুলাই টাইমনিউজবিডি.কম