বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশের মামলায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে জেলহাজাতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শনিবার বিকেলে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. ইকবাল মাসুদ এ আদেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার জয়দেবপুর থানার এআই মো. আহাদুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে সিটি কপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে অধ্যাপক এমএ মান্নানসহ ৪০ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরো ২০-৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এদের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিএনপিপন্থি ১১ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এ মামলায় অধ্যাপক এমএ মান্নান ও তার ভাই সহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন গাজীপুর সিটির মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান শুক্রবার তার নিজ বাসভবন সালনায় শতাধিক নেতা-কর্মী বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষপটকে আরো অস্থিতিশীল করার জন্য গাজীপুর চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন।

পরে সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনহত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ চান্দনা চৌরাস্তায় গিয়ে দেখেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিমধ্যে শুক্রবার রাত আটটা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দনা স্কুলের সামনে কেপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করেন এবং রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় ৯ জনকে আটক করে।

পরে আটক আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের নির্দেশে তারা বাসে অগ্নিসংযোগ করেছেন এবং অধ্যাপক এমএ মান্নান কালিয়াকৈরের দিকে চলে গেছেন।

এরপর ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় ধাওয়া করে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ফাঁড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাত ১১টার দিকে পুলিশ অধ্যাপক এমএ মান্নানসহ ১০ জনকে জয়দেবপুর থানায় আনা হয়। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হয়।

অধ্যাপক এমএ মান্নানের আইনজীবী মো. মনির হোসেন জানান, মিথ্যা ও হাস্যকর মামলায় অসুস্থ অধ্যাপক মান্নানসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আদালতে আসামিদের জামিন প্রার্থনা করলে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


এসএম