মিশরের ইসলামপন্থি সশস্ত্র যোদ্ধারা দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এতে ৫ সেনা নিহত হয়েছে।
ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমস ও এএফপি’র।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে সিনাই উপদ্বীপে এ ঘটনা ঘটে। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল কায়দা প্রভাবিত আনসার বেইত আল মাকদিস গ্রুপ। সংগঠনটি  হামলার পর আগুন লেগে ভূপাতিত হতে থাকা হেলিকপ্টারটির ভিডিও প্রকাশ করেছে।
লিবিয়ার স্বৈরশাসক কর্নেল গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর তার অস্ত্রভাণ্ডার ইসলামী যোদ্ধাদের হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এ ঘটনায় সেই ধারণাই শক্ত ভিত্তি পেলো।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাউন্ডেশন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসিসের বিশেষজ্ঞ ডেভিড বার্নেট বলেন, ওই ভিডিওটি আসল।
শনিবার এক টিভি সাক্ষাৎকারে মিশরীয় সেনাবাহিনীর সাবেক মুখপাত্র সামেহ সেইফ আল-ইয়াজাল বলেন, রাশিয়ায় তৈরি স্ট্রেলা-২ ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়েছে। গাদ্দাফির আমলে লিবিয়ায় এই অস্ত্রের মজুত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণে কাঁধ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যোদ্ধারা রাশিয়ার তৈরি স্ট্রেলা-২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ন্যাটো একে এসএ-৭ বলে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ম্যানপ্যাড নামে পরিচিত এই ক্ষেপনাস্ত্রটি দিয়ে নীচুতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক বিমান ভূপাতিত করা যায়, বিশেষ করে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়।
বিমান বিধ্বংসী এই অস্ত্রের মাধ্যমে সিনাইভিত্তিক আনসার বেইল আল মাকদিস এখন  মিশরীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরো তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
মিশরীয় সেনাবাহিনী ৫ জন সেনা নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করলেও দাবি করেছে এটি ছিল দুর্ঘটনা।
রোববার মিশরের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেখানো হয়, সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সেনাবাহিনীর একটি শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1390809094.jpg[/img]
মিশরের ইতিহাসে প্রথম অবাধ নির্বাচনে জয়ী ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে গত জুলাই মাসে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে সিনাইত্তিক এই সংগঠনটি। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২০০ সদস্য নিহত হয়েছে।
তবে মিশরের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে। রবিবারও সিনাইতে ওঁৎ পেতে থাকা যোদ্ধারা চার সেনাকে হত্যা করেছে। এর আগে শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীতে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করে  সশস্ত্র যোদ্ধারা।
এর আগে ডিসেম্বরে রাজধানী কায়রোর পুলিশ সদর দপ্তরে গাড়ি বোমা চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করে আনসার বেইত আল মাকদিস।
[b]মিশরে আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন[/b]
এদিকে, মিশরের সেনাসমর্থিত প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর ঘোষণা করেছেন, দেশটিতে আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং পরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর ক্ষমতা হস্তান্তরের যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল তাতে বলা হয়েছিল প্রথমে সংসদ এবং পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির জয় নিশ্চিত করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আগে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বা জোট সিসিকে সমর্থন না দিলে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়া দুরুহ হতে পারে আশঙ্কা করে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এই নির্বাচনে সিসি প্রার্থী হবেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
[b]ঢাকা, জানুয়ারি ২৭ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জিই[/b]