আনন্দ শিপইয়াডের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি , বিদেশে অর্থ পাচার ও আত্মসাতের ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয, কাওরানবাজার, বৈদেশিক শাখা ও সেন্টাল রোড শাখার ২৫ জনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের অনুসন্ধানী টিম ব্যাংকটির এমডি’র মাধ্যমে ওই ২৫ কর্মকতাকে তলবি নোটিশ পাঠান।

নোটিশ প্রাপ্তদের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের কাওরানবাজার শাখার ৮ জনকে আগামী ১২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টার পর ১ টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে হাজির হতে বলা হয়েছে। 

এই ৮ জন হলেন- সাবেক এসভিপি মো. নুরুল ইসলাম, এভিপি কাজী মঈনুদ্দিন খাদেম, ভিপি মো. মিজানুর রহমান ভূইঁয়া, এভিপি মো. মোসলেহ উদ্দিন, ভিপি মো.আলিমুর রহমান, এভিপি মো. আবুল কালাম আজাদ, এভিপি মনির হোসেন, প্রিন্সিপাল  অফিসার একেএম বোরহান উদ্দিন। 

১৩ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় তলব করা হয়েছে প্রধান কার্যালয়ের সাবেক প্রধান নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ডিইপি মো. আবদুল মান্নান , সাবেক ডিও এটিএম হারুন অর রশিদ চৌধুরী, ডিএমডি মো. সামসুল হক, সাবেক ইভিপি মো. আতাউর রহমার, এমডি মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক ইভিপি সৈয়দ আবদুল্লাহ মোম্মদ সালেহ, ইভিপি  ইনিঞ্জনিয়ার মোহাম্মদ আলী, এসভিপি ইঞ্জিনিয়ার ময়েজ উদ্দিন, ভিপি মো. হাসান আবিদ, সাবেক এভিপি মো. দেলোয়ার হোসেন,  এভিপি মাহমুদ হোসেন খান ও সাবেক সিনিয়র অফিসার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল ইসলাম।

আগামী ১৬ নভেম্বর  সেন্টাল রোড শাখা এবং বৈদেশিক শাখার ৪ জনকে সকাল সাড়ে ৯ টায় দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। এরমধ্যে এসভিপি মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ভিপি ম্যানেজার মো. আবু সুফিয়ান, বৈদেশিক শাখার এভিপি মো. মনির হোসেন এবং এসপিও আহমেদ আলী।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                    জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ দুদকের সিনিয়র উপ পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী কমিশনের কাছে  অনুসন্ধানের অগ্রতির  একটি প্রতিবেদন জমা দেন। একই সঙ্গে ৪ সদস্যের একটি শক্তিশালী টিম গঠনের আবেদন জানান। পরে কমিশন  গত ২২ অক্টোবর ৪ সস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।

জানা যায়, ৭টি ব্যাংক এবং ৭টি লিজিং প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ১৬ শত কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আনন্দ শিপইয়ার্ডের কাছ থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র, প্রতিষ্ঠানটির এমডি আফরোজা বারীকে জিজ্ঞাসাবাদ লব্ধ তথ্য, অনুসন্ধান কেন্দ্রিক গৃহিত পদক্ষেপ এবং পরবর্তী অনুন্ধান পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।  সেই সঙ্গে  আনন্দ শিপইয়ার্ডের বৃহৎ এ ঋণ জালিয়াতি অনুসন্ধান এককভাবে চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ নয়-এ বিবেচনা থেকে একাধিক কর্মকর্তার সমন্বয়ে টিম গঠনের সুপারিশ করা হয়।

এদিকে আরও জানা যায়, আনন্দ শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তা এবং মিডিয়া পরামর্শক হিসেবে পরিচয়দানকারী জনৈক ব্যাক্তি ইতোমধ্যে  জাতীয় একাধিক দৈনিকর সিনিয়র রিপোর্টারকে ব্লাক মেইলীং করার চেষ্টায় আছেন। এমনকি একাধিক মিডিয়ার প্রভাবশালী সিনিয়র সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির চেষ্টা করেন।

একই সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও নানাভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টায় আছেন। যার ফলে বিষয়টিকে সামনে রেখে দুদক কর্মকর্তারা এবার শর্তকতার সঙ্গে এগুচ্ছেন।

 

একে, জেএ