৭১'র মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের(রাষ্ট্রপক্ষের) ১১তম সাক্ষী মো. নওশাদ আলী তার জবানবন্দিতে এ কথা বলেন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ তিনি  তার জবানবন্দি পেশ করেন। এ সময় প্রসিকিউটর রানাদাশ গুপ্ত সাক্ষীকে সহযোগিতা করেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেছেন, একাত্তরে আমার বাবা শহীদ মাজত আলী হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ খাদ্য গুদামের দারোয়ান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোনো একদিন আমার বাবাসহ সাত জনকে কায়সারের ইশারায় পাকিস্তানীরা গুলি করে হত্যা করে।
নওশাদ আলী বলেন, ১৯৭১ সালের কোনো এক দুপুরে ভাই মোস্তফা আলীর সাথে বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে দেখেন, অনেক লোকজন গুদাম থেকে মাল ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর একটি জিপ এসে সেখানে থামে। তিন চারজন লোক জিপ থেকে নেমে গুদামের চারপাশ ভাল করে দেখে নেয়। এই লোকগুলো চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তানি সেনা সদস্যসহ অনেক লোক ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিতে দিতে খাদ্য গুদামের দিকে আসছে।
সাক্ষী বলেন, আগের জিপ গাড়িতে আসা তিন চারজনের মধ্যে একজন ছিলেন অভিযুক্ত সৈয়দ কায়সার। যা তিনি পরবর্তীতে ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন।
সাক্ষী নওশাদ আলী বলেন, ওই লোকগুলো খাদ্য গুদামে আসার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকের লোকজন পালিয়ে যেতে শুরু করল। তখন মো. কায়সার এবং অন্যান্য লোকজন বাবাসহ সাত জনকে গুদাম থেকে টেনে বের করে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। আমি শুনলাম কায়সার এবং তার সঙ্গে আসা লোকগুলো বাবাসহ ওই সাতজনকে গুদামের বাইরে যেতে বারণ করছে। পাঞ্জাবি সৈন্যদের পাহারায় রেখে কায়সার ও তার সঙ্গে আসা লোকগুলো চলে যায়। এর কিছুদিন পর এক সকালে ভাইয়ের সাথে খাদ্য গুদামে গিযে দেখেন, বাবাসহ অন্যদের গুদাম থেকে বের করে অন্য একটি বিল্ডিংয়ে নিয়ে আটক করে। পরে জানতে পারেন এটি স্থানীয় ডাকবাংলা।
সাক্ষী বলেন, সেদিন জোহরের নামাজের কিছুক্ষণ পর দেখি আমার বাবাসহ সাতজনকে হাটিয়েঁ খোয়াই নদীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তখন আমি এবং আমার ভাই তাদের অনুসরণ করতে করতে খোয়াই নদীর পাড়ে একটি আখ ক্ষেতে গিয়ে লুকিয়ে ঘটনা দেখতে থাকি। তখন দেখতে পেলাম বাবাসহ সাতজনকে খোয়াই নদীর পাড়ে দাঁড় করানো হলো। কায়সার ইশারা করার সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্জাবি সেনারা সাতজনকে গুলি করে হত্যা করে। এবং তাদের লাশ খোয়াই নদীতে ভাসিয়ে দেয়। তার বাবাসহ ওই সাতজন স্বাধীনতার পক্ষের লোক ছিলেন বলেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ কথা তার মায়ের কাছে শুনেছেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছেন।
সাক্ষী গ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন সৈয়দ কায়সারের আইনজীবী এসএম শাহজাহান। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে আগামী ১১ মে পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন।
[b]ঢাকা: কেএ ৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর
[/b]