সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের হওয়া দুর্নীতি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় হাজিরা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

বুধবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ ও ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ হাজিরা দেন তিনি।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের মামলাটি  দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ।

গত ২৬ মে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ ঢাকার সিএমএম আদালতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করেন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জহুরুল হকের আদালত।

এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, এ নারীর (ইনজে মারিয়া) স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ না থাকলেও মওদুদ আহমদ তার পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে তা দেখান। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে তৎকালীন সরকারে যোগদান করে প্রথমে সরকারের মন্ত্রী এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় উপ-প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিজের ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বাড়িটিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা করেন মওদুদ। এরই ধারাবাহিকতায় হোল্ডিং নং ১৫৯নং এর  প্লটটির মূল্য মাত্র ১০০ টাকা দেখিয়ে বরাদ্দ নেন তিনি। ১৯৮০ সালে প্লটটি রেজিস্ট্রি করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ইনজে মারিয়া কর্তৃক জনৈক মহসিন দরবার বরাবরে একটি আম মোক্তারনামা সম্পাদন দেখানো হয়। ইনজে মারিয়া ১৯৮৫ সালে মারা যান। এটা জানা সত্ত্বেও মহসিন দরবার নামক ব্যক্তিকে দিয়ে মৃত ব্যক্তির আমমোক্তার হিসেবে ১৯৮৫ সালে বাড়িটি মওদুদের সহোদর ভাই মনজুর আহমদ বরাবর চুক্তি সম্পাদন দেখানো হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, মওদুদ তার ভাই মনজুর আহমদকে অবৈধভাবে ওই বাড়ির কথিত মালিক বানানোর কাজে একে অন্যকে সহায়তা করার মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ করেছেন।

তবে মওদুদ আহমেদের পক্ষে দাবি করা হয়, বাড়িটি সরকারি সম্পত্তি নয়, ব্যক্তিগত সম্পত্তি। আর মওদুদ আহমদের ভাই ব্যক্তি মালিকের কাছ থেকেই বাড়িটি ক্রয় করেছেন।

মনজুর আহমদ বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন।

অপর ৫টি মামলা গত জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয়েছিল।

জেএ