১৩ বছর ধরে ঝুলছে রমনা বটমূলে চাঞ্চল্যকর বোমা হামলার মামলার বিচার প্রক্রিয়া। কবে এই মামলার বিচার কাজ শেষ হবে তা এখনও নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫ আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই তারিখে মামলার সাক্ষীকে জেরার দিন ধার্য রয়েছে।
২০০১ সালে পহেলা বৈশাখ রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ৯ জন ও পরে ১ জন হাসপাতালে মারা যান। ৩০ থেকে ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
এ ঘটনার পর সেই দিন রমনা বটমূল ও আশপাশ এলাকাজুড়ে হাজার হাজার নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার আলামত জব্দ করে।
নানা টানাপড়নের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি দিনের পর দিন ঝুলতে থাকে। মামলার একাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনের পর দিন তদন্ত করে মূল পরিকল্পনাকারী হোতাদের চিহ্নিত করতে পারেনি। ২০০৮ সালে জঙ্গি মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ২০০১ সালে ১৪ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ সার্জেন্ট অমল চন্দ্র বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা (নং৪৬(৪)১) দায়ের করেন। মামলার আসামি ছিল সবাই অজ্ঞাত। এই মামলায় একাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে।
মোট ৭ জন তদন্তকারি কর্মকতা ছিল। সর্বশেষ ২০০৮ সালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় হরকাতুল জেহাদের (হুজ্জি) শীর্ষ জঙ্গি নেতাসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলে আছে ৯ জন। আর পলাতক রয়েছে ৫ জঙ্গি।
জেলে আছে জঙ্গি মুফতি আবদুর রউফ, মাওলানা আবু তাহের, শওকত ওসমান, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা আবদুল হান্নান সাব্বির, মুফতি আবদুল হান্নান ও আরিফ হাসান সুমন।
পলাতক আসামিরা হলো- জঙ্গি হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা তাজউদ্দিন, আবদুল হাই, মাওলানা আবু বক্কর ও মুফতি শফিকুর রহমান।
২০০৯ সালে ১৬ এপ্রিল এই মামলার চার্জগঠন করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন আছে।
এদিকে আগামী ২২ এপ্রিল রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার আসামিপরে সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন তারিখ ধার্য করেন বিচারক ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ রুহুল আমিন। এছাড়া তিনি হাইকোর্টের আদেশ আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পুণরায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। যথারীতি আদালতে উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা আবু হেনা ইউসুফ। তবে শুনানির শুরুতেই আসামিপ থেকে শুনানি মুলতবির আবেদন জানিয়ে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তার পুণরায় সাক্ষ্যগ্রহণের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকার পক্ষে অতিরিক্ত পিপি এসএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, যেহেতু আসামিপ উচ্চ আদালতের কোনো আদেশ দাখিল করেননি। সেহেতু সাক্ষ্য নেয়া যেতে পারে। এই বলে তিনি সাক্ষ্য নেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। আদালত উভয়পরে শুনানি শেষে ২২ এপ্রিল উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলের দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ওই সাক্ষীকে জেরার দিন ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এই মামলায় মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
মামলার ৭ নম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আবু হেনা মো. ইউসুফকে ২২ এপ্রিল জেরা করা শেষ হবে বলে সরকারপক্ষ দাবি করেছে। ইতোমধ্যে ৮৪ জন সাীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬১ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। এর মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাড়াও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রয়েছেন।
[b]ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]





