হঠাৎ আবার মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকারের'   বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে দুর্নীতি দমন কশিমন (দুদক)। ইতোমধ্যে দুদক ‘অধিকারের' অর্থের উৎস ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা পরিবর্তন করেছে।

দুদকের উপ-পরিচালক (এ পুলিশের এ এসপি) এস এম রফিকুল ইসলামকে নতুন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা সম্প্রতি । হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ অধিকারের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিলেন।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলায় ৬১ হেফাজত কর্মী নিহত হয়েছে বলে দাবি করে অধিকার। ওই প্রতিবেদনের পর সরকার তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যায়।
২০১৩ সালের আগস্টে বিকৃত তথ্য প্রকাশের অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দুদক সূত্র মতে, ২০১৩ সালের জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর অর্থের উৎসের সন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দুদক অভিযোগ রয়েছে ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ' অধিকার' চার কোটি ২১ লাখ ৮৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা বিদেশী তহবিল থেকে গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৩ হাজার ৩২১ টাকা ছাড় করে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো।

অধিকারের নিজস্ব ৪টি প্রকল্পের মধ্যে ‘এডুকেশন অন দ্য কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার এ্যান্ড অপিসিএটি অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকার বিদেশী তহবিল থেকে ২ কোটি ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৪ টাকা গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের মেয়াদ এপ্রিল ২০১২ থেকে মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত ছিল।

‘হিউম্যান রাইট রিসার্চ এ্যান্ড এ্যাডভোকেসি’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার ১৫৫ টাকা বিদেশী তহবিল থেকে গ্রহণ করে সংস্থাটি। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে অক্টোবর ২০১০ থেকে জুন ২০১৪ পর্যন্ত।

‘এমপাওয়ারিং ওমেন এজ কমিউনিটি হিউমেন রাইট ডিপেন্ডার’ নামক প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা বিদেশী তহবিল থেকে গ্রহণ করে অধিকার। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত।

এ সব অভিযোগের পাশাপাশি অধিকারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে অবৈধভাবে পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

দুদক ওইসব অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি ‘অধিকার’ সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
একে