যশোরের ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী হিরা খাতুন। আজ বুধবার সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি।
ছেলেকে অপহরণের পর দাবি করা ঘুষের টাকা না পেয়ে হত্যা ও গুমের অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানার ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমলি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শহরের শংকরপুর এলাকার হিরা খাতুন।
আদালত হিরা খাতুনের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হিরা খাতুনের আইনজীবী অজিত কুমার দাস আজ সাংবাদিকদের বলেন, বাদী আজ সকালে নিজে এসে মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান।
তিনি বলেন, বাদী আবেদনে লিখেছেন যে আসামিদের সঙ্গে তাঁর মীমাংসা হওয়ায় এবং আসামিরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বুঝতে পেরে তিনি এ মামলা চালাতে ইচ্ছুক নন।
যশোর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী মাহবুব আলম বাচ্চু বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটলে বিষয়টা মানুষ স্বাভাবিকভাবে দেখে না। এ ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।
মামলার নিজস্ব গতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেই মানুষ মনে করছে। মাহবুব আলম বাচ্চু বলেন, এ মামলার আসামিরা ক্ষমতাবান। পেছনে এমন একটা কিছু কাজ করেছে যাতে মামলা প্রত্যাহারে দেরি হয়নি।
এর আগে মামলার আরজিতে হিরা খাতুন উল্লেখ করেন, ‘গত ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তাঁর একমাত্র ছেলে সাইদ (১৭) ও তার বন্ধু শাওন শহরের পৌর পার্কে বেড়াতে যায়। ওই দিন বেলা ১২টার দিকে সাব্বির হোসেন নামে এক যুবক তাঁকে মোবাইল ফোনে জানায় যে পুলিশ সাইদ ও শাওনকে আটক করেছে।
ওই সময়ই তিনি পৌর পার্কে যান এবং দেখতে পান যে সাইদ ও শাওনকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দৌড়ে গাড়ির কাছে গিয়ে পুলিশের কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলে তারা তাঁকে থানায় গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে থানার সামনে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকলেও তাঁকে থানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে ডেকে ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
এরপর ৭ এপ্রিল তিনি পত্রিকা মারফত জানতে পারেন যে, তাঁর ছেলে সাইদ ও শাওন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। তিনি থানায় গিয়ে এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি। পরে আদালতে গিয়ে জানতে পারেন যে পুলিশ আদালতে একটা মামলা করেছে।
ওই মামলায় তাঁর ছেলে ও শাওন পালিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাঁর ছেলের সন্ধানে তিনি বারবার পুলিশের কাছে গেলেও তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়।’
একপর্যায়ে ছেলের সন্ধান চেয়ে হিরা খাতুন গত ৩০ মে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাঁর ছেলে ও ছেলের বন্ধুর কোনো খোঁজ মেলেনি।
দুই লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও তাদের লাশ গুম করে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। হিরা খাতুন জানান, ওই কারণেই আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
মামলায় আসামি করা হয়েছিল যশোর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এইচ এম শহিদুল ইসলাম, আমির হোসেন ও হাসানুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাজন গাজী, সেলিম মুন্সি, বিপ্লব হোসেন ও সেলিম আহম্মেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, মো. রমজান, হাবিবুর রহমান, আবু বক্কার, মিজান শেখ, মাহমুদুর রহমান, রাজিবুল ইসলাম ও টোকন হোসেনকে।
পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাদীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। একটি কুচক্রী মহল পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এ মামলা করেছে।’
এমএ





