মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহের আটজন এবং পটুয়াখালী জেলার পাঁচজনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমন্ডীস্থ প্রধান কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান ও জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক মিয়া।

পটুয়াখালীর অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন- সদর থানার সোলায়মান মৃধা (৮৬), মো: এছাহাক সিকদার (৮৩), আ: গণি হাওলাদার (৭২), মো: আওয়াল মৌলভী (৬৯) ও মো: আ: ছাত্তার প্যাদা (৬৫)। ময়মনসিংহের অভিযুক্ত আটজন হলেন- মুক্তাগাছা থানার কচুয়া দাখিল মাদরাসার সাবেক সুপার ও জাতীয় পার্টির নেতা মো: রেজাউল করিম (৬৫), একই থানার সুবর্ণখিলা দাখিল মাদরাসার সাবেক সুপার ও জাতীয় পার্টির সমর্থক এ বি এম ইউনুছ আলী (৬৫)।

মুক্তাগাছার বিএনপি সমর্থক কাজী বদিউজ্জামান (৬৫), সদর থানার বন বিভাগের সাবেক কর্মচারি ইউসুফ আলী (৬০), জামালপুর সদরের কৃষক মো: ওমর ফারুক (৭০), মুক্তাগাছা সুবর্ণখিলা দাখিল মাদরাসার সাবেক দফতরি ও জামালপুর সদরের নাসির উদ্দিন (৬৪), একই থানার আরেক কৃষক মো: ইসমাইল (৬৫) এবং সাবেক ইউপি সদস্য এ কে এম বেলায়েত হোসেন (৬৪)।

ময়মনসিংহের আটজনের মধ্যে চারজন গ্রেফতার এবং চারজন পালাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পটুয়াখালীর পাঁচজনই গ্রেফতার রয়েছেন বলে জানান তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। ময়মনসিংহের আটজনের বিরুদ্ধে চার খণ্ডে চারশ’ ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলায় ২০১৫ সালের ১ মে থেকে তদন্ত শুরু করে ২০১৬ সালের ৪ মে পযন্ত তদন্ত শেষ করে প্রতিবদন চূড়ান্ত করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মো: মতিউর রহমান ও মো: রুহুল আমিন। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী করা হয়েছে ৪৬ জনকে।

অপরদিকে পটুয়াখালীর পাঁচজনের বিরুদ্ধে পাঁচশ’ আট পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে ১৫ জন নারীকে ধর্ষণ করাসহ সম্মিলিতভাবে ১৭টি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সত্য রঞ্জন রায়।

এমআর