নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী এহতেশামুল হককে অফিস চলাকালে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতে নাতে আটক করেছে দুদক। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

দুদকের সংবাদ সম্মেলনে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চরগোয়ালদী গ্রামের খেজমত আলীর ছেলে মোজাম্মেল হক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলীর আওতায় মেসার্স মিরাজ এন্ড মেহরাব এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স করে বিভিন্ন ঠিকাদারী কাজ করে আসছেন।

সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলী কাঁচপুর হাইওয়ে থানা থেকে মোশারফ চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা আরসিসির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের জন্য (জঋছ) বিজ্ঞপ্তি নং- ০২/২০১৮-২০১৯ এর মাধ্যমে দরপত্র আহবান করা হলে তিনি তাতে অংশ গ্রহণ করেন।

উক্ত কাজের বিপরীতে দশ লাখ টাকায় দর উদ্ধৃত্ত দরে দর দাখিল করেন। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মনোনিত হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে গত ০২ আগষ্ট তার নামে কার্যাদেশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু উক্ত কার্যালয়ের উপ-সহকারী (প্রকৌশলী) এহতেশামুল হক তার নিজের জন্য এবং তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অর্থাৎ উপজেলা প্রকৌশলীর কথা বলে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন। অনেক দরদরী কষাকষি করে উপায় না দেখে তাকে আশি হাজার টাকা ঘুষ দিতে রাজি হন। উক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পিরাপিরিতে কার্যাদেশ গ্রহণের সময় বাধ্য হয়ে তিনি ত্রিশ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে প্রদান করেন। পরে কাজটি যথাযথ ভাবে সমাপ্ত করে গত ১৩ আগষ্ট তারিখে প্রথম ও চূড়ান্ত বিল প্রদানের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর বরাবর আবেদন করেন। তিনি ওই দিনই দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী এহতেশামুলকে বিল করার জন্য নির্দেশ দেন। এহতেশামুল হক অবশিষ্ট পঞ্চাশ হাজার টাকা না পেয়ে চূড়ান্ত দশ লাখ টাকার বিল দিতে তালবাহানা শুরু করে। উপায়ান্ত না দেখে তিনি (মোজাম্মেল) ঘুষের উক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে সম্মত হন। অভিযোগকারী মোজাম্মেল হক উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এহতেশামুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বক অবৈধ ভাবে নিজেকে লাভবান করার জন্য তার নিকট টাকা নিকট চাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি লিখিত দরখাস্ত প্রদান করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন।

সেই প্রেক্ষিতে নাসিম আনোয়ার, পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, ঢাকা বিভাগের তত্বাবধানে এবং মোরশেদ আলম, উপ-পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ এর তদারকিতে ১১ সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করেন। ফাঁদটিম উপজেলা কার্যালয়ে ফাদপেতে ঘুষের পঞ্চাশ হাজার টাকা সহ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী এহতেশামুল হককে হাতে নাতে গ্রেফতার করে।

অবৈধ ভাবে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ এর সহকারী পরিচালক ফজলুল বারী এ মামলার বাদী হবেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন, ঢাকা বিভাগের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বলেন, আমরা হাতে নাতে উপসহকারী প্রকৌশলীকে ঘুষসহ গ্রেফতার করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

শাহ জালাল মিয়া/এসএম