ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন রাস্তা, ফুটপাত, সড়কদ্বীপ, রোড ডিভাইডারে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন তাৎক্ষণিক অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসাথে সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুমুতি ছাড়া বিভিন্ন প্রকার বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, গেইট, তোরণ, দেয়াল লিখন ইত্যাদি অপসারণে চলমান প্রক্রিয়ার জন্য (সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম) অব্যাহত রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সংকান্ত এক রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের বিচারপতি মো: রেজাউল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো: শাহজাহান।

রিটকারী সংগঠন পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা)-এর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল ইসলাম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খুরশিদুল আলম।

গত ২২ আগস্ট দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে বিভিন্ন রাস্তা, ফুটপাত, সড়কদ্বীপ, রোড মিডিয়ান ইত্যাদি হতে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারন করেছে।

এর মধ্যে অপসারিত ব্যানার ১১ হাজার ২৭৪টি, ফেস্টুন ১৩ হাজার ৯০৫টি এবং পোস্টার ১৮ হাজার ৭২৪টি। এছাড়া ৫৭৭টি বিলবোর্ড অপসারন করা হয়েছে। এছাড়া নগরীকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য রাখার লক্ষ্যে এই অপসারণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ওই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় অননুমোদিত বিভিন্ন প্রকার বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, গেইট, তোরণ, দেয়াল লিখন ইত্যাদি অপসারণে করপোরেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে এই অপসারন কার্যক্রম ৯০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও জানান।

এছাড়া কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে এই অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সব আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রাজধানীতে অননুমোদিত সব পোস্টার, ব্যানার ও তোরণ ২২ আগস্টের মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

একইসাথে দেয়াললিখনও মুছে ফেলতে বলা হয়।

হাইকোর্টের ওই নির্দেশ মোতাবেক এই হলফনামা দাখিল করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে অননুমোদিত সব পোস্টার, ব্যানার ও তোরণ অপসারনের নির্দেশ দেন।

একই সাথে রুল জারি করেন। সেই রুল নিষ্পত্তি করে বুধবার হাইকোর্ট রায় দেন।

এমবি