গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খান জড়িত কি না তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

গুলশান হামলা মামলায় গ্রেফতার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে এরই মধ্যে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (টিআইএস) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং তার জবানবন্দির তথ্য মেলানোর পরই জানা যাবে এ ঘটনায় হাসনাত জড়িত কি না।

এছাড়া তাহমিদের বিষয়েও জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কর্মকর্তারা। তথ্য গোপন এবং তদন্ত সংস্থাকে অসহযোগিতার অভিযোগে তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। তাকে জামিন দেয়া হলেও গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

তবে মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশানের ঘটনায় তাহমিদ জড়িত নয় এমন কথাও বলা যাবে না। ভবিষ্যতে তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ভারত থেকে এলেও এর উৎস সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে গুলশান হামলার অর্থ মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলেও অর্থদাতাকে এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে মনিরুল বলেন, গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ অভিযানে নিহত হয়েছে বা আত্মহত্যা করেছে। কেউ কেউ পলাতক। তাদের গ্রেফতার করা গেলে রহস্য উন্মোচন করা যাবে।

তিনি আরও জানান, আজিমপুরে অভিযানে নিহত তানভির কাদেরির ছেলে তাহরীম কাদেরি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এতে গুলশান হামলা সম্পর্কে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে কল্যাণপুরের আস্তানা থেকে গ্রেফতার জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে গুলশানের ঘটনায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সে স্বীকারোক্তি দিলে এ বিষয়ে আরও কিছু প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

নিউ জেএমবির উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে এদেশে কিছু তরুণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

তার মতে, গত ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং ২০১৫ সালের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের কারণে আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যস্ত ছিল। এই সুযোগে নিউ জেএমবি সংগঠিত হয়ে হামলার পরিকল্পনা করে।

মনিরুল মনে করেন, নিউ জেএমবি একটি মতাদর্শিক সংগঠন হওয়ার কারণে এটিকে সমূলে বিনাশ করতে হবে। এটা করা না গেলে তারা সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর সারা দেশে যে গণসচেতনতা তৈরি হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এমবি