মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে ইন্টারনেটে তা ছড়ানোর অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত যুবকের নাম খসরুল মিয়া (২০) বলে জানা যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। খসরুল বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বানিকোনা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, কিশোরীর বাড়ি বড়লেখার একটি গ্রামে। তার বাবা-মা দিনমজুর। কিশোরীটি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবম শ্রেণীতে পড়ে। গত ২ মে রাতে প্রকৃতির ডাকে ওই কিশোরী ঘরের বাইরে গেলে খসরুল ও তাঁর সহযোগী একই ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের বাবেল (২০) তাকে ধরে নিয়ে যান। কিশোরীর মুখ চেপে বাবেলের বাড়িতে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে একটি কক্ষে তাকে ধর্ষণ করেন দুই যুবক। এ সময় ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন তাঁরা। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে যুবকেরা হুমকি দেন ওই কিশোরীকে।

প্রায় এক ঘণ্টা পর অসুস্থ কিশোরীকে বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান তাঁরা। পরে কিশোরী স্বজনদের ঘটনাটি খুলে বলে। পরদিন কিশোরীর অভিভাবকেরা এ ব্যাপারে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খসরুল ও বাবেল ধর্ষণের আপত্তিকর দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ৯ মে ওই কিশোরী বাদী হয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় মামলা করেন।

আজ বেলা ১১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস চন্দ্র রায়  জানান, ডাক্তারি পরীক্ষায় ছাত্রীটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। গোপন সূত্রে অবস্থান জেনে গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে খসরুলকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন এসআই।

এসআই তাপস জানান,  অপর আসামি বাবেল পলাতক। তাঁকেও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে বড়লেখা থানা হাজতে থাকা খসরুল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

ঢাকা, ১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ