মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান ‍মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে আগামী ১৬ জুন চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন সুপ্রিম কোর্ট।

বুধবার দুপুর ১টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের আপিল মামলায় গতকাল (মঙ্গলবার) যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে আসামিপক্ষ। মুজাহিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান। সঙ্গে ছিলেন শিশির মুহাম্মদ মনির।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম ২৭ মে পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত। আজ (বুধবার) রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়।

এর আগে, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে।

তৃতীয় অভিযোগে (ফরিদপুরের রণজিৎ নাথকে আটক রেখে নির্যাতন) তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পঞ্চম অভিযোগে (নাখালপাড়া সেনাক্যাম্পে আলতাফ মাহমুদ, রুমী, বদি, আজাদ, জুয়েল হত্যাকাণ্ড) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ষষ্ঠ (বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড) ও সপ্তম অভিযোগে (বাকচরে হিন্দুদের হত্যা ও নিপীড়ন) মুজাহিদকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। ষষ্ঠ অভিযোগের সঙ্গে প্রথম অভিযোগ (সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন হত্যা) একীভূত করায় এতে আলাদা করে শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মুজাহিদকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট আপিল করে মুজাহিদ খালাস চান। সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি। গত ২৯ এপ্রিল থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়।

কেএইচ, কেবি