আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে এই বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ আগস্ট) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না এবং তার টিমের সদস্যরা।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সরোয়ার হোসাইন।

এর আগে রিফাত হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২০ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) মামলার নথিপত্রসহ তলব করেন আদালত।

তাকে ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।  

গত ২২ আগস্ট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার আগেই মিন্নির দোষ স্বীকার সংক্রান্ত বিষয়ে বরগুনার এসপি কখন সংবাদ সম্মেলন করেছেন তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকেও আদালতে আসতে বলা হয়।

আদালতের নির্দেশে মিন্নিকে আসামি করা বিষয়ে যাবতীয় নথি (কেস ডকেট) নিয়ে আজ (২৮ আগস্ট) আদালকে হাজির হন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এস আই হুমায়ন কবির।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো দা দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় মিন্নি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের থামানো যায়নি। খুনিরা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়।

পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়।

এই হত্যার ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পরের দিন সকালে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। মিন্নি ছিলেন সেই মামলার ১ নম্বর সাক্ষী। পরে ১৬ জুলাই রাতে এই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। পরদিন বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এমবি