দুর্নীতি দমন কশিশনে (দুদক) অভিযোগের পাহাড় কিন্তু সেই তুলনায় অ্যাকশন নেই,শুধু আছে আপোস আর ছাড় দেয়ার ঘটনা। প্রাথমিক যাচাই বাছাইয়ের নামে দুর্নীতির অভিযোগের সিংহভাগ ফেলে দেয়া হয়।

ফলে এ প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং আগের সেই ইমেজ নিয়ে জনমনে যথেষ্ট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দুদকের বাছাই টিমের কর্মকর্তারা কৌশলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, এমপি আর আমলাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রথমেই গায়েব করে ফেলেন জানা যায়।

সূত্র মতে,২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন নাম করণ করা হয় এ প্রতিষ্ঠানটির। তবে টানা ১০ বছরেও এ প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতাসীন সরকার এবং আমলাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিপক্ষকে দমন করতে গিয়ে নানা বিতর্ক এবং ইমেজ সংকটে পড়ছে।

তবে ২০০৭ সালে এ প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন চেয়ারম্যান সাবেক সেনা প্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরীর সৃষ্টি করা ওই ইমেজ পরবর্তীতে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান ধরে রাখতে পারেননি। ফলে দুদক এখন ইমেজ সংকটে পড়েছে। অনেকে এ প্রতিষ্ঠানটিকে মেনেজ আর সাফাই সার্টিফিকেট দেয়ার প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন।

এদিকে দুদকের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খানের পরিবেশিত ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর দুদকে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় জমে কিন্তু দুদক ওই সব অভিযোগের সামান্য কিছু অভিযোগ আমলে নেয়। আর বাকি অভিযোগগুলো চাপা পড়ে যায়।

দুদকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৯ সালে প্রাপ্ত অভিযোগ ছিল ৭ হাজার ৬৫৭টি। আর এ অভিযোগের বৃদ্ধির ধারা বাহিকতায় দেখা যায় ২০১৩ সালে প্রাপ্ত অভিযোগ ১০ হাজার ৩৪টি এবং ২০১৪ সলের অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসে অভিযোগ জমা হয়েছে ৮ হাজার ৬৩৭টি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুদক ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার অভিযোগের মধ্য থেকে মামলা দায়ের করেছে মাত্র ৩ হাজার ৬৬২টি। একই সময়ে চার্জশিট অনুমোদন করে ৩ হাজার ৭১২টি মামলার। এর মধ্যে বেশকিছু আগের দায়ের হওয়া মামলা রয়েছে।

বিচারিক নিম্ম আদালতে দুদকের আইনজীবী এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নানা দুর্বলতা এবং নিরবতার কারণে ক্ষমতাসীন, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় দুদক হেরে যায়। ফলে দুদকের ৬০-৭০ ভাগ মামলা খারিজ হয়ে যাচ্চেছ। পরে ওইসব মামলায় উচ্চ আদালতেও অনেক দেরিতে দুদক আপিল করায় আসামি পক্ষই আইনী সুবিধা বেশি পাচ্ছেন।

দুদকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আদালতে ৩ হাজার ৮০০ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৮১৩টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে বিচারিক আদালতে ১৯৫টি মামলা রায়ে দেখা যায়, ১১৫টি মামলায় হেরেছে দুদক আর জিতেছে মাত্র ৮০ টি মামলায়।

২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্নীতির অভিযোগ জমা হয় ৮ হাজার ৬৩৭টি, এর মধ্যে প্রাথমিক ভাবে আমলে নেয় ৮৩৫ টি। কিন্তু পরে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করে মাত্র ৮১টি অভিযোগ।

এছাড়া আগের প্রাপ্ত অভিযোগ থেকে ২৩৮টি মামলা দায়ের করে, আদালতে আগের দায়ের হওয়া ৪১৩টি মামলায় আদালতে চার্জশিট অনুমোদন করে। একই সঙ্গে প্রভাবশালী, রাজনীতিবিদ , আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আগের দায়ের হওয়া ৪২৩টি মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।

একে/এসএইচ