পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে পুলিশের এক বড় সোর্সের নাম এসেছে। তার নাম মুসা।

গত রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান-বন্দিতে এমনটাই উল্লেখ করেছেন এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ার।

তারা বলেছেন, মুসা পুলিশের অনেক বড় সোর্স। অনেক টাকা দেয়ার লোভ দেখিয়ে এক নারীকে খুন করতে তাদের নির্দেশ দেন মুসা।

কিলিং মিশনে মুসাসহ সাতজন অংশ নিয়েছিলেন। বাকি ছয়জন হলো আবদুল নবী, আনোয়ার, ভাগিনা রাশেদ, কালু, শাহজাহান ও ওয়াসিম। অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন হানিফুল হক ভোলা নামে একজন।

ডিবি সূত্র জানায়, কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সাতজনই দুর্ধর্ষ অপরাধী। এর মধ্যে কামরুল ইসলাম ওরফে মুসা শিকদার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাণীরহাট এলাকার খোয়াইল্ল্যা পাড়ার মৃত শাহ আলম শিকদারের বড় ছেলে।

ছয় ভাই, তিন বোনের মধ্যে মুসা তৃতীয়। তার পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাটিয়ে ২০০০ সালে তিনি সে দেশে ফিরে আসেন।

এসেই বিয়ে করেন আপন চাচা পুলিশ কনস্টেবল ফারুক শিকদারের মেয়ে পান্না শিকদারকে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সঙ্গে সখ্য করে তোলেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হাত ধরেই তার উত্থান। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাঙ্গুনিয়া এলাকায় অনেক অপকর্মের হোতা ছিলেন মুসা।

এক পর্যায়ে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গেও সখ্য গড়ে ওঠে তার। এই সূত্রে বাবুল আক্তার হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি হয়ে আসার পর তার সঙ্গেও মুসার ঘনিষ্টতা গড়ে ওঠে।

পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারে বদলি হয়ে যাওয়ার পরও মুসা বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে ছিলেন। এ সময় মুসা রাঙ্গুনিয়া ছেড়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় এসে আস্তানা গড়ে তোলেন। জড়িয়ে পড়েন অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায়।

তার ছত্রছায়ায় রাঙ্গুনিয়ার ওয়াসিম, রাশেদ, আনোয়ার, আবদুল নবী, শাহজাহান ও কালুসহ কয়েকজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী শহরে এসে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে।

এসএম