রাজধানীর রামপুরার ওয়াপদা রোডের আশিস লেন গলিতে একটি বেওয়ারিশ কুকুরকে লাঠি ও রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার মামলায় সাপ্তাহিক হাজিরার শর্তে জামিন পেলেন তিন যুবক।
বুধবার আসামিদের ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপপরির্দশ (এসআই) জসিম উদ্দিন।
অপরদিকে আসামিদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর আইনের ধারাটি জামিনযোগ্য বিবেচনায় সাপ্তাহিক হাজিরার শর্তে ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় এ জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ১৭ জুনের ঘটনা, মহল্লার কয়েকজন তরুণ একটি বেওয়ারিশ কুকুরকে লাঠি ও রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। কেউ একজন কুকুরটিকে নির্যাতন এবং পড়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়।
অনলাইনে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সেই ছবি। আর তা দেখেই বেওয়ারিশ কুকুরটির পাশে দাঁড়ায় ‘অভয়ারণ্য’ নামের একটি সংগঠন।
মমতার হাত বাড়িয়ে কুকুরটিকে সুস্থ করে তোলে তারা। শুধু তাই নয়, কুকুরের ওপর নিষ্ঠুরতা চালানোর অভিযোগে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও ঠুকে দেন অভয়ারণ্য বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রুবাইয়া আহমেদ। আর সেই মামলায় কুকুর ‘হত্যাচেষ্টাকারী’ তিন তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর রামপুরার ওয়াপদা রোড এলাকা থেকে শোভন ওরফে শুভ (১৮), জনি (২২) ও ইমরান (১৮) নামে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির উদাহরণ থাকলেও বাংলাদেশে এমন ঘটনায় এটিই প্রথম গ্রেফতার।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান তরফদার বলেন, প্রাণী সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে ‘অভয়ারণ্য’।
সংগঠনের সভাপতি রুবাইয়া আহমেদের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা থানা হাজতে আছে।
বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে। দেশে এমন আর কোনো মামলা এবং গ্রেফতারের খবর আমাদের জানা নেই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, ১৯২০ সালের জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় ১৮ জুন ওই মামলা করা হয়। মামলায় শুভ ও জনি এজাহারভুক্ত আসামি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দু’জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজন মিলে কুকুরটিকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যাচেষ্টা চালায়। মামলার তদন্তে কয়েকজন তরুণ মিলে বেওয়ারিশ কুকুরটিকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ওয়াপদা রোডের আশিস লেন এলাকা থেকে শুভ ও ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।
রাত ১০টার দিকে একই এলাকা থেকে জনিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা তিনজনই লেখাপড়া করছে।
তবে পুলিশের কাছে আটকদের দাবি, কুকুরটি স্থানীয় একজনকে কামড় দেওয়ায় তারা সেটিকে মেরেছে।
অভয়ারণ্যের সভাপতি রুবাইয়া আহমেদ বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে আক্রান্ত কুকুরটিকে উদ্ধার করে পশু হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান তিনি। কুকুরটি এখন প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছে। আটক যুবকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
১৯২০ সালের আইন হওয়ায় এ ধারার সাজাও নগণ্য। মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা অথবা ৩ মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয়প্রকার দণ্ডের বিধান রয়েছে। এ আইনের মামলার ধারাগুলো জামিনযোগ্য।
এসএইচ





