মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ফের বৃদ্ধি করেছে আদালত।
আগামী ৮ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত (অস্থায়ী) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক খন্দকার হাসান মাহমুদ ফিরোজ বৃহস্পতিবার এ দিন ধার্য করেন।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বৃদ্ধি করা হল।
অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর)। কিন্তু প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত আগামী ৮ জানুয়ারি সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
এর আগে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রচি মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন।
তিনি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ‘এ মামলায় সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। ফলে আরও অনেককে সাক্ষী করা যায়নি। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য মামলাটি অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন।’আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়ার পথে মঞ্জুরকে আটক করে পুলিশ।
এর পর ওই বছরের ২ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং মৃত্যু সনদপত্র পেতে দেরি হওয়ায় ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর মামলাটি বিভিন্ন কারণে ঝুলেছিল। বিচার চলাকালে পর্যায়ক্রমে মোট ২২ জন বিচারক বিচারিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে ২২ জনই বিভিন্ন কারণে বদলি হয়েছেন। ২২ জানুয়ারি মামলার ২২তম বিচারক ঢাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তার চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
কেএ





