ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ (২১ জুলাই) রোববার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ইমরুল কায়েস দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর এই আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ঘুষ লেনদেনের মামলায় ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে। আদালত শুনানি নিয়ে মিজানকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। দুদকের আরেক মামলায় ডিআইজি মিজান গত ১ জুলাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। রোববার মিজানকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে ডিআইজি মিজানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।
তিনি বলেন, এই মামলায় মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। মিজান সম্পূর্ণ নির্দোষ। শুনানি শেষে মিজানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এনে দুদকের বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ও ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে গত ১৬ জুলাই মামলা করে দুদক।
এই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা সংস্থার পরিচালক ফানাফিল্লাহ। মামলার এজাহারে বলা হয়, খন্দকার এনামুল বাছির কমিশনের দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। অভিযোগ আছে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে অবৈধ সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। ঘুষের ওই টাকার অবস্থান গোপন করেছেন।
উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।
দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে ২৫ জুন মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
অন্যদিকে, মিজানের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যদিও নারী নির্যাতন, ঘুষ প্রদান, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে দুই বছর ধরে মিজানুরের নাম আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
২৪ জুন ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।
এমবি





