২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে ওই প্রতিবেদন কেন জনসম্মুখে প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলসহ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আজ বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন।
আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন এডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে  সারাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতন করা হয়েছিল।
ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সাবেক জেলা জজ মো. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। ওই কমিশন সহিংস জেলাগুলিতে অনুসন্ধান চালায়।
এক বছর অনুসন্ধান শেষে সহিংসতায় জড়িতদের তালিকা ও সুপারিশসহ প্রায় একহাজার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জমা দেয় ওই কমিশন।
হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মনজিল মোরসেদ জানান, প্রতিবেদন দাখিলের পরে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রিট আবেদনটির কার্যকরিতা আদালত চলমান  রেখেছিলেন।
কিন্তু ওই তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ না হওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়নি। ফলে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিচারের দাবিতে আবারো ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশে আদালতে আবেদন করা হয়। যার প্রেক্ষিতে আদালত বুধবার এই নির্দেশ দেন।

টিআই ঢাকা ২২ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // এআর