প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা,মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি মামলার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমশিন (দুদক) অনেক নমনীয়। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমও অনেকটা থেমে গেছে। ফলে ফুরফুরে মেজাজে আছেন প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতারা।
জানা যায়, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির ১৫ মামলা বাতিল ও প্রত্যাহার করা হয়েছে। চারদলীয় জোট সরকার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের এই মামলাগুলো করা হয়। কিন্তু বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোনো আদালত কিংবা থানায় দুর্নীতির মামলা তো দূরের কথা কোনো অভিযোগই নেই।
শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার কার্যক্রমও থেমে গেছে। লোক দেখানের জন্য দুদকের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে দু-একটা চিঠি চালাচালি হয়। এর বাইরে আর কোনো জোরালো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ রয়েছে দুদকের বিরুদ্ধে। ফলে আওয়ামী লীগের কয়েক'শ দুর্নীতিবাজ এবং শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিকরাও বর্তামানে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।
জানা যায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলার বাদী ব্যবসায়ী নুর আলম, আজম জে চৌধুরী এবং তাজুল ইসলাম আদালতে আবেদন জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পল্টন থানা পুলিশের মামলাটিও আদালতে আবেদন জানিয়ে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
এছাড়া হাইকোর্টে শুনানি করে রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালের ৪ মার্চ বাতিল হয় বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার দুর্নীতি সংক্রান্ত পৃথক ৩টি মামলা। একই পদ্ধতিতে হাইকোর্টে শুনানি শেষে রায়ের মাধ্যমে বাকি মামলাগুলোও একের পর এক বাতিল করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা, ফ্রিগেট ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা, ভাসমানবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন (বার্জ মাউন্টেট) দুর্নীতি মামলা, নাইকো গ্যাস উত্তোলন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা, বেভজা দুর্নীতি মামলা, মেঘনা ঘাট মামলা, বঙ্গবন্ধু মাজার সংক্রান্ত মামলা এবং সেনানিবাসে অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ সংক্রান্ত মামলা।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অতিরিক্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছে দুদক। হাইকোর্টের রায়ের হাসিনার বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলাগুলো বাতিল করা হয়। কিন্তু দুদক হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেনি।
এই বিষয়টি টাইমনিউজবিডিকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।
তিনি বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের বিরুদ্ধেও দুদকের কোনো মামলা নেই। দুদকের করা মামলায় নিম্ন আদালতে তার সাজা এবং জরিমানা হয়। পরে তিনি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে তা বাতিল হয়ে যায়। এদিকে দুদক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ওই আপিলটি শুনানি করে মহিউদ্দিন খান আলমগীর পক্ষে রায় পান।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবক লীগ সহ মহাজোট সমর্থিত অর্ধশতাধিক সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এমপি, নেতা ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের অধিকাংশই্ হাইকোর্টে বাতিল হয়ে যায়। আবার কিছু মামলা স্থগিত রয়েছে। তবে দুদক এই সব মামলায় হাইকোর্টের আদেশ ও রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল (আবেদন) করেছে। কিন্তু আসামি পক্ষ আবেদন করে তাদের মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া,সাবেক এমপি আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পঙ্কজ বেদনাথ এমপি প্রমুখ।
এবার দুদক নতুন করে আওয়ামী লীগ ৭/৮ জন নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং বর্তমান এমপির অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক এমপি, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, আসলামুল হক এমপি,মাহবুব রহমন বদি এমপি, আবদুল জব্বার এমপি, এনামুল হক এনাম এমপি,বগুড়ার আবদুল মান্নান ওরফে কালা মান্নান এমপি,সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি প্রমুখ।
দুদক নোটিশ পাঠিয়ে তাদের অনেকের সম্পদ বিবরণীও জমা নিয়েছে। কিন্তু আর কোনো নড়া- চড়া নেই, এমন অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি জানান,এসব মামলা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ইমেজ ও সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্যই দায়ের করা হয়েছিল। এগুলো ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক। এসব মামলা আদালতে টিকেনি।
অপরদিকে মহাজোট সরকারের শরীক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ এবং তাদের পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে দুদক অনেক কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরশাদের পুরনো মামলাগুলো নিয়ে এখনো টানা টানি চলছে।
[b]ঢাকা, ২২ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]
অপরাধ
ফুর ফুরে মেজাজে আ’লীগ নেতারা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা,মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি মামলার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমশিন (দুদক) অনেক নমনীয়। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমও অনেকটা থেমে গেছে। ফলে ফুরফুরে মেজাজে আছেন প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতারা। জানা যায়, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার





