সমকামিতার সম্পর্ক গড়তে ব্যর্থ হয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ও লেভেলের ছাত্র জুবায়ের আহমেদকে (১৭) হত্যা করেছেন ফুটবল প্রশিক্ষক আলজেরীয় নাগরিক আবু ওবায়েদ কাদের।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় গ্রেফতার হওয়া আলজেরীয় নাগরিক আবু ওবায়েদ কাদের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

রোববার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল করিম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি আবু ওবায়েদ কাদের একজন সমকামী। তিনি আলজেরীয় নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদে কাদের স্বীকার করেছেন, তিনি গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় অবৈধভাবে বসবাস করছেন।

শেখ নাজমুল করিম জানান, সমকামী এই আলজেরীয় নাগরিক ফুটবল প্রশিক্ষণ নিতে আসা কিশোরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে সমকামী শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী এ পর্যন্ত তিনি অনেক কিশোর ছেলেদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন। তিনি একজন অবিবাহিত পুরুষ।

তিনি আরো জানান, এই আলজেরীয় নাগরিকের ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে সমকামিতার ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্যাদির প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, তিনি প্রতারণামূলকভাবে তার ব্যবহৃত মোবাইল সিম বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে ব্যবহার করছিলেন।

স্কুলছাত্র জুবায়ের হত্যার ঘটনায় তার মা দিলারা বেগম বাদী হয়ে মামলা করলে তার প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, জুবায়েরের বন্ধু নবম শ্রেণীর ছাত্র সতেরো বছর বয়সী ইসমাইল এবং মূল হত্যাকারী ছেচল্লিশ বছর বয়সী আলজেরীয় নাগরিক আবু ওবায়েদ কাদের।

গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উত্তরা পশ্চিম থানার ৪নং সেক্টর মাঠে ফুটবল খেলা শেষে গোসল করতে গিয়ে খুন হয় জুবায়ের।

জুবায়ের ও তার বন্ধু ইসমাইলসহ আরো কয়েকজন ওই মাঠে খেলা করতে যায়। পরে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরত আসায় তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে তারা বাসায় রেখে যাওয়া জুবায়েরের মোবাইল ফোন থেকে  জুবায়েরের পরিচিত জনদেরকে ফোন করতে থাকেন। তখন ইসমাইলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আবু ওবায়েদ কাদের ফোন রিসিভ করেননি।

পরদিন সকাল ৬টায় আলজেরীয় নাগরিক আবু ওবায়েদ কাদের জুবায়েরের ফোনে কল করে পরিবারকে জানান, জুবায়ের কোথায় আছে, তিনি তা জানেন না। এ সময় পরিবারের প্রশ্নে ওবায়েদ কাদের জুবায়ের সম্পর্কে এলোমেলো কথাবার্তা বলতে থাকেন। এতে তাদের সন্দেহ হয়। ফলে তারা ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কাদের জানান, জুবায়েরের লাশ পুকুরে রয়েছে।

পরে আবু ওবায়েদ কাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হলে ইসমাইল সম্পর্কে তথ্য দেন তিনি। পরে ইসমাইলকে গত ১০ অক্টোবর বিকেল চারটায় উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

আবু ওবায়েদ কাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, খেলা শেষে আবু ওবায়েদ কাদের, ইসমাইল এবং জুবায়ের ছাড়া অন্যরা খেলার মাঠ ত্যাগ করে। পরে তারা তিনজন মাঠের পাশে পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে। এ সময় জুবায়ের গোসল করার উদ্দেশ্যে তার নিজের জার্সি খুলে পুকুরে নামে। একই সময়ে আবু ওবায়েদ কাদেরও সমকাম করার কুমতলবে পুকুরে নামেন। পরে ৪৬ বছর বয়সী ওবায়েদ কিশোর জুবায়েরকে জড়িয়ে ধরে যৌনকর্ম করার চেষ্টা করেন। এ সময় জুবায়ের ও তার মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে ওবায়েদ জুবায়েরের সঙ্গে  যৌনকর্ম করতে না পারায় তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে ডুবিয়ে দেন।

এ সময় বন্ধু ইসমাইল পুরো ঘটনাটি দেখে ফেলায় হত্যাকারী আলজেরীয় নাগরিক ওবায়েদ তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং অর্থলোভসহ বিদেশ নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামি দু’জনই পুলিশি রিমান্ডে রয়েছে।

এএইচ