একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রাখার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মীর কাসেমের মতো সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে রায়ের পর তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, কিছু কিছু সংগঠন এমন ভাব দেখাচ্ছে যে তারাই বিচারের সব করছে।

মাহবুবে আলম বলেন, আজ মীর কাসেমের রায় দিতে পাঁচজন বিচারপতির বসার কথা ছিলো। সেখানে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে নয়জনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বসানো হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতি জানান, বিচার বিভাগ নিয়ে দু’জন মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি খুবই মর্মাহত। তাদের আদালতে হাজির হতে হবে। তাদের বক্তব্যের জন্য কেন তাদের দণ্ডিত করা হবে না তা জানতে চাওয়া হবে।

তিনি আরও বলে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই বলে দিয়েছেন এটা সরকারের বক্তব্য নয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এ বিচার হচ্ছে। এটা নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা সরকারের ইশতেহার ছিলো। সে অনুযায়ীই বিচার হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর জামায়াত নেতা মীর কাসেমকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর আপিল করেন মীর কাসেম।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওই আপিলের শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি। পরে রায় ঘোষণার জন্য আজকের (৮ মার্চ) তারিখ ধার্য করেন আদালত।

২০১২ সালের ১৭ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেমকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১৩ সালের ১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৪ জন ও আসামিপক্ষে তিনজন সাক্ষ্য দেন। চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এসটি/কেবি