ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের(ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা পুরনো ঢাকায় 'বলধাগার্ডেনের' সামনের রাস্তায় অবৈধ ভাবে ৪৪টি ‘দোকান’ বরাদ্দ দিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
জানা যায়, ডিসিসি বিভক্তির পর প্রথম (তৎকালিন) প্রশাসক খলিলুর রহমান, ডিসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুলতান উল ইসলাম চৌধুরী, ডিসিসির সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বর্তমানে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন, ডিসিসির সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা বর্তমানে বাগেরহাট জেলার চিতলমারির উপজেলার ইউএনও মোঃ দিদারুল আলম, ডিএসসিসির জালিয়াতির বরপুত্র কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সার্ভেয়ার মুরাদ হোসেন ও সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান চক্র পরিকল্পিতভাবে ওই রাস্তায় অবৈধ ভাবে ৪৪টি দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে লোপাট করেন।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও তদন্ত অনুসন্ধানী কমিটিকে দ্রুত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশে দুদকের এ টিম অভিযুক্তদ্ধের বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছেন বলে জানা যায়।
দুদক সূত্র জানায়, রাজধানীর ওয়ারি এলাকায় ৩ দশিমক ১৫ একর জায়গা জুড়ে ঐতিহাসিক বলধাগার্ডেন। ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনের তত্ত্বাবধানে এ গার্ডেনে সংরক্ষিত রয়েছে ৬৭২ ধরণের গাছ-গাছালি।
শুধু তাই নয়, উুঁচ বাউন্ডারি ঘেরা এ বাগানের পশ্চিম দেয়াল ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণে রাস্তা। বিস্তার দশমিক ১২৫৬ একর। যার দাগ নম্বর-১০৭২১, খতিয়ান-১৩।
আরো জানা যায়, সরকারের সর্বশেষ সিটি জরিপেও পরিস্কারভাবে উল্লখে রয়েছে, জমির শ্রেণী‘রাস্তা’। মালিকানায় রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আর এ রাস্তার ১৯৮০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে ডিসিসি ৪৪টি দোকান বরাদ্দ দেয় ওই চক্রটি।
প্রত্যেকটি দোকান ৯ ফুট বাই ৫ বর্গ ফিট। ২০১২ সালে এই বরাদ্দ দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ কোটি টাকারও বেশি।
এদিকে ডিএসসিসির চিহ্নিত এদুর্নীতি পরায়ন চক্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুদক রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে ফাকা জাগায় ছাদের উপর ছাদে ১১২টি দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে কয়েক শত কোটি টাকা আত্মসাতের সুনিদির্ষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
নীলক্ষেত এলাকায় ১১২টি দোকান বরাদ্দ এবং লোপাটের মামলার এফআইর ভুক্ত আসামি; ডিএসসিসি সাবেক প্রশাসক খলিলুর রহমান, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান উল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ দিদারুল আলম, কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সার্ভেয়ার মুরাদ হোসেন ও সৈয়দ রুমান। ইতোমধ্যে তাদেরকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।কিন্ত জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা সঠিক জবাব দিতে পারেননি বলে জানা যায়।
একে





