ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার ছবি পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার রসরাজ দাসের জামিন শুনানি আজ মঙ্গলবার হওয়ার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ দুইজনকে আটক করেছে।
নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় জব্দ হওয়া কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সাইবার পয়েন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া কম্পিউটার থেকে ছবি এডিট করা হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। রসরাজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ছবি পোস্ট হয়নি বলে আরেকটি রিপোর্টে উল্লেখ আছে।
জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিবি) মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, হরিপুর বাজারের আল আমিন সাইবার পয়েন্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলমের হেফাজত থেকে জব্দকৃত কম্পিউটার পিবিআই’র কাছে পাঠানো হয়। গত রোববার হাতে পাওয়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কাবা শরিফ অবমাননার ছবিটা জব্দকৃত জাহাঙ্গীর আলমের কম্পিউটারে সংরক্ষণ ও এডিট করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে তা আবার মুছে ফেলা হয়েছে। রসরাজের মোবাইল ফোন থেকে ছবি পোস্ট হয়নি বলে আগেই পিবিআই’র রিপোর্ট আসে। তবে কার মাধ্যমে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়, সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাসিরনগরে হামলা চালানোর ঘটনায় ‘সন্দেহভাজন’ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আখিঁর ব্যক্তিগত সহকারী উত্তম কুমার দাস (২৫) ও হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মনোরঞ্জন দেবনাথকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় আটকের পর সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ তারা থানায় ছিলেন।
নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর জানান, হরিপুর গ্রাম থেকে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মনোরঞ্জন দেবনাথ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের আনন্দবাজার থেকে উত্তম কুমার দাসকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। হামলার ঘটনায় অন্যতম এক সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর রসরাজ দাসের ফেসবুক থেকে কাবা শরিফ অবমাননার ছবি পোস্ট করা হয় অভিযোগ এনে ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে সদরে দুটি সভা আহ্বান করে আহলে সুন্নাতুল জামাত এবং খাটি আহলে সুন্নাতুল জামাত নামে দুটি সংগঠন। সমাবেশ চলাকালে একদল লোক লাঠিসোঁটা এবং ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাসিরনগর উপজেলা সদরের বেশ কয়েকটি হিন্দুপাড়ায় হামলা চালায়। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০টি মন্দির এবং শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।
এ ঘটনায় আটটি মামলা হলে পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রসরাজ ও জাহাঙ্গীর আলম এখন জেলহাজতে আছেন।
এমএনজে





