ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হলো।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামান বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যপ্রদানের জন্য ১ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
অপরাধজনক প্রাণনাশের অভিযোগে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই ১৩ আসামির বিচার হবে।
অভিযোগ গঠনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার পাওয়ার আবেদন জানান।
এ দিন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়েও আবেদন করেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আগুন লাগার পর শ্রমিকদের বের হতে না দিয়ে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় অভিযোগ ওঠে। এরপর তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার মিতাসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
দোষী সাব্যস্ত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন এ আদালতের পিপি খন্দকার আবদুল মান্নান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত হন। আহত ও দগ্ধ হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক।
পরদিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা যুক্ত করা হয়।
মামলা হওয়ার ১৩ মাস পর ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন সিআইডির পরিদর্শক এ কে এম মহসীন উজ জামান খান।
অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৩০৪ (ক) ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধজনক নরহত্যা’ ও ‘অবহেলার কারণে মৃত্যুর’ অভিযোগ আনা হয়।
বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠনের সময় দেলোয়ার ও মাহমুদাসহ জামিনে থাকা সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পলাতক পাঁচজনের মধ্যে তাজরীনের প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ এদিন আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এই আটজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আসামিদের মধ্যে দেলোয়ার, মাহমুদা ও মোর্শেদ ছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, ইনচার্জ আনিসুর রহমান, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন জামিনে রয়েছেন।
আর কারখানা ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহিদুজ্জামান দুলাল, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল ও লোডার শামীম মিয়া পলাতক।
প্রসঙ্গত, তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের কয়েক মাসের মধ্যে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করে।
এএইচ/কেএইচ





