দায়িত্বে থাকাকালীন ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালামের বিরুদ্ধে মামলা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার কমিশন এ মামলা অনুমোদন দেয় বলে দুদক নিশ্চিত করেছে।
আগামীকাল বুধবার সংস্থার উপপরিচালক সামছুল আলম তেজগাঁও থানায় মামলাটি করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রটি জানায়, ইটিভির বিজনেস প্রমোশন, আইনি বিষয়, বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল দেখিয়ে আবদুস সালাম প্রায় ৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
ইটিভির সাবেক এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক। তথ্য গোপন করে বিদেশি কোম্পানি সিটিকর্প-এর নামে থাকা ইটিভির শেয়ার হস্তান্তরের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর তথ্য রয়েছে দুদকের কাছে। এ ছাড়া ইটিভির স্থানীয় শেয়ার হোল্ডারদের কাছ থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা না দিয়ে তিনি নিজের লোকদের নামে শেয়ার
হস্তান্তর করিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও পরিচালক নুর আহাম্মদকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, ইটিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। গত বছরের ৪ জানুয়ারি রাতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ মিনিটের একটি বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের এক দিন পর ৬ জানুয়ারি ভোরে আবদুস সালামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা ক্যান্টনমেন্ট থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর ৮ জানুয়ারি ‘উসকানি দিয়ে পুলিশে বিদ্রোহের চেষ্টা’ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আবদুস সালাম ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে পুলিশ। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, ইটিভিতে তারেক রহমানের ওই ভাষণ প্রচারের পর ৭ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পুলিশ। এর ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার আবেদন করা হয়। ৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে এই মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। মামলায় তারেক ও সালাম ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এআই





