কোন কতৃত্ব বলেদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এখনোমন্ত্রী ও এমপি পদে বহাল আছেন তা জানতে চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ রেজিট্রি ডাক যোগে এ নোটিশ পাঠান।

ইউনূস আলী আকন্দ বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিগ্যাল নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যাথায় আদালতে রিট করা হবে।

গত ২২ জুন মায়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। রায় প্রকাশের পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান মায়ার মন্ত্রী ও সাংসদ পদে থাকা সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন।

ওই দিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, এ অবস্থায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে থাকা সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, তিনি নৈতিকতার স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আপিলে এখনো তিনি নির্দোষ সাব্যস্ত হননি। এ বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ, এ নিয়ে জাতীয় সংসদে একটি বিতর্ক হওয়া উচিত।’

জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মায়াকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। একই সঙ্গে মায়াকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ওই রায়ে আদালত অবৈধভাবে অর্জিত মায়ার ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন।

ওই রায় ঘোষণার সময় মায়া পলাতক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মায়া। ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দুর্নীতির মামলা থেকে তাকে খালাস দেন। পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় দুদক। 

গত ১৪ জুন এ-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগ যে আদেশ দেন, তাতে এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইআর