মৃতুদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে এ রায় দেয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার আইনজীবী শিশির মনির হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন জমা দেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রায়ের ৪৪টি গ্রাউন্ডে রিভিউ আবেদন করা হয়েছে।

জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার পুনর্বিবেচনার আবেদনের রায়ে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এর অনুলিপি আসামির কাছে পৌঁছানোর বা তাকে জানানোর মধ্যে যেটি আগে হয়, তার ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে হবে। সে হিসাবে আসামিকে রায় জানানোর ১৫তম দিন আজ।

গতকাল বুধবারই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেন তার আইনজীবী তাজুল ইসলাম, শিশির মনির, এহসান এ সিদ্দিক, মতিউর রহমান আকন্দ ও নজিবুর রহমান। কারাফটকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়েই মূলত কামারুজ্জামানের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি সুস্থ ও মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন। তবে কামারুজ্জামান মনে করেন, তিনি ন্যায়বিচার পাননি। তবে তার আশা, রিভিউতে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।

তাজুল ইসলাম এ সময় আশা প্রকাশ করেন, আপিল বিভাগে অন্যান্য মামলায় যে ধরনের সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়, রিভিউতে একই ধরনের সুযোগ দেওয়া হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠমতে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিন পূর্ণাঙ্গ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন বিচারপতি। ওই দিনই মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায় এবং তা কামারুজ্জামানকে পড়ে শোনানো হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পেয়েছেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা।

এএইচ