অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজধানীর বঙ্গবাজার ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারের কার পার্কিং ও খোলা জায়গায় দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
রোববার রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম।
খোকা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন মোড়ল, অবসরপ্রাপ্ত সম্পত্তি কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন সাবু, সম্পত্তি বিভাগের কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সার্ভেয়ার মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া, ফারুক হোসেন এবং মোতালেব হোসেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ডিএনসিসি'র বঙ্গবাজার ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারের কার পার্কিং ও খোলা জায়গায় অবৈধভাবে ৪৯৩টি দোকান নির্মাণ করে তা অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন অভিযুক্তরা।
দুদকের দুই কমিশনার এ মামলার অনুমোদন দেওয়ার দেড় মাস পর সম্প্রতি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান মামলার অনুমোদন দেন।
দুই কমিশনার মামলার অনুমোদন দেয়ার পর অভিযুক্ত সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ও কানুনগো মোহাম্মদ আলী অভিযোগ সম্পর্কে তাদের শুনানি গ্রহণের জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। পরে কমিশন মোহাম্মদ আলীর শুনানির আবেদন বাতিল করে মশিয়ার রহমানের শুনানি গ্রহণ করে। মশিয়ারের শুনানি গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় অভিযুক্তের তালিকায় তার নাম রাখা হয়।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএনসিসির নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্থায়ী মার্কেট দুটির কার পার্কিং ও খোলা জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে ও অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি করে ৪৯৩টি দোকান বিভিন্নজনের কাছে প্রতি বর্গফুট ১৫ টাকা হারে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়েছেন। ডিএনসিসির এস্টেট বিভাগের ২৫২৫ নং নথিতে নোটশিট পরিবর্তন করে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দুটি মার্কেটের মোট ৪৯৩টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটশিট পরিবর্তন করে নথিতে স্বাক্ষর করেন সার্ভেয়ার মোতালেব হোসেন, মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া, কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন মোড়ল ও সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বঙ্গবাজারে অস্থায়ী বরাদ্দের মূল কপি গায়েব করে ফটোকপি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কানুনগো মোহাম্মদ আলী দোকান বরাদ্দের নথির নোটে প্রতি বর্গফুটের ভাড়া বাবদ ১০ টাকা উল্লেখ করেছিলেন। পরে তা অনুমোদন করেছিলেন সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান। এরপর সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা প্রতি বর্গফুটের ভাড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিলেন। তারা কিসের ওপর ভিত্তি করে মাসিক ভাড়ার হার নির্ধারণ করেছেন, তার কোনো ব্যাখা উল্লেখ করেননি।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুযায়ী, স্থায়ী কোনো মার্কেটের দোকান অস্থায়ীভাবে বরাদ্দের সুযোগ নেই। ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি করে দোকান নির্মাণ ও অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিয়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৬/৪৬৮/১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা লঙ্ঘন করেছেন তারা, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ঢাকা, একে, ২৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ, কেইউ





