জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জনতা ব্যাংকের অধীনস্থ জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের (জেসিআইএল) বিরুদ্ধে গ্রাহকের ২৪ লাখ ২২ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন- জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিএম (এরিয়া অফিস, কুমিল্লা উত্তর) মো. মঞ্জুরুল আলম, প্রধান কার্যালয়ের এজিএম (রিসার্চ, প্ল্যানিং অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস ডিপার্টমেন্ট) এমএইচএম জাহাঙ্গীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসএমইশাখা) মো. নজরুল ইসলাম,প্রাক্তন ডিজিএম মো. সাইফ উল্যাহ এবং জেসিআইএলের এক্সিউটিভ অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন খান।
দুদক সূত্র জানা, ২০১০ সালের ১৯ জুলাই শেয়ার ব্যবসার উদ্দেশ্যে জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ৫০ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে একটি বিও অ্যাকাউন্ট (নম্বর-১৮৫৪) খোলেন মেজর (অব.) মো. আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী শাহানারা পারভীন। পরে মো. এনায়েত করিম নামের একজনকে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ করেন তিনি। একই বছরের ২২ জুলাই ৩০ লাখ টাকা ওই বিও অ্যাকাউন্ট নম্বরে জমা করা হয়। এছাড়া স্বামীর কাছ থেকে ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি ৬ লাখ, ১৬ জানুয়ারি ১২ লাখ এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ লাখসহ মোট ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ৭০০ টাকা শাহানারা পারভীন জমা করেন ওই বিও অ্যাকাউন্ট ।
তখন শেয়ার মার্কেট পড়তির দিকে থাকায় মো. এনায়েত করিম অপারেটর হিসেবে সেই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। ৯ নভেম্বর ২০১০ অপারেটর হিসেবে বাতিল করা হয়। এরপর থেকে ওই অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার কেনা-বেচা হয়নি বা মার্জিন ঋণও গ্রহণ করা হয়নি।
শাহানারা পারভীন গত ৬ মে বিও অ্যাকাউন্টের হিসাব বিবরণী নিয়ে দেখতে পান , তার নামে ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭৪ টাকা মার্জিন লোন প্রদান করে শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট ফি বাবদ ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ টাকা এবং সুদ হিসেবে ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে।
গ্রাহকের অজান্তেই দুর্নীতি, জালিয়াতি ও বেআইনীভাবে মার্জিন লোন প্রদান করে ২৪ লাখ ২২ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়ার পরই এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
কেএইচ





