রাজশাহী-৪ এর এমপি ও এনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান এনামুল হকের ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার আয়কর ফাঁকির বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য নথি এনবিআরএ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দুদকের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাংবাদিকদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে শিগগিরই এনথি দুদক থেকে এনবিআরএ পাঠানো হচ্ছে। অর্থাৎ এমপি এনামুল হককে আইনের ফাঁক ফোকড়ে পাড় করার সব ধরনের প্রচেষ্ঠা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুদকের বর্তমান পরিচালকের (সাবেক উপ-পরিচালক) দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমপি এনামুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলার সুপারিশ রেখেছেন। যতন কুমার রায়ের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সরকার দলীয় এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। আর দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তারা ওই সম্পদের তথ্য গোপন। এছাড়া এনামুল হক ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার আয়কর ফাঁকির সুনিদিষ্ট অভিযোগের বিষয়টিও দুদক কর্মকর্তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে গত ১০ সেপ্টম্বর: দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা যতন কুমার রায়কে ‘হাওয়া করে’ ফেলার হুমকি দেন রাজশাহীর সরকারদলীয় এমপি এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাঞ্চন দাস। এ ঘটনায় যতন কুমার রায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৭৭৭) করেছেন। ওই ডায়েরিতে দুদক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রাজশাহী-৪ এর এমপি এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাসের মোবাইল (নম্বর ০১৬৭৭০৭২১১১) ফোন থেকে যতন কুমার রায়ের মোবাইলে (নম্বর-০১৬৮৭৭১১২৭৯) ফোন করে হুমকি দেন। এমপি এনামুল হক ও তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে প্রতিবেদন দেয়া যাবে না।
এনামুলের আইনজীবী কাঞ্চন দাস দুদক কর্মকর্তাকে বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের উপর মহল,এমনকি (দুদকের) কমিশনও এমপি এনামুল হকের পক্ষে। শুধু মাত্র অনুসন্ধানী কর্মকর্তার রিপোট এমপির পক্ষে দিলেই হয়।
এ হুমকির জবাবে দুদক কর্মকর্তা এনামুলের আইনজীবীকে জবাব দেন, রেকর্ডপত্রে যা পাওয়া যাবে সে অনুযায়ী (রিপোর্ট) প্রতিবেদন দেবেন। এর বাইরে কিছু থাকবে না। কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক।
তখন কাঞ্চন বলেন, এমপি সাহেব আপনার প্রতিবেদনে যেন কোম্পানি ও ব্যক্তিকে এক করে দেখানো না হয়। দুদক কর্মকর্তা বলেন, এমপির কোম্পানীর অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ‘দ্য প্রিপারেশন অব দিস ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস ইজ দ্য রেসপন্সিবিলিটি অব দ্য কোম্পানিস ম্যানেজমেন্ট’। এ ক্ষেত্রে এনামুল হক সাহেবদের দায়-দায়িত্ব রয়েছে।
যতন কুমার বলেন, নেট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু আপনারা সরকারকে আয়কর দিয়েছেন মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকার। আর আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার।
কাঞ্চন দাস বলেন, এমপি সাহেব বলেছেন আপনার প্রতিবেদনে যেন মামলার সুপারিশ না থাকে। মামলার সুপারিশ থাকলে হাওয়া হয়ে যাবেন।
জিডিতে যতন কুমার উলে¬খ করেন, ইতিপূর্বেও কাঞ্চন দাস মোবাইল ফোন ও সরাসরি এ ধরণের হুমকি প্রদান করেন। কয়েকদিন আগে আমাকে হাইজ্যাক করার ফাঁদ সৃষ্টি করা হয়েছিলো।
রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি পর ওই দিন বিকেলে যতন কুমার রায় সাংবাদিকদের বলেন, এমপি এনামুল হকের লোক তাকেক হাওয়া করে ফেলার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি তিনি দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনার ও মহাপরিচালক মহোদয়কে জানিয়েছেন। পরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে তিনি থানায় জিডি করেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে আরেকজন উপ-পরিচালককে হত্যার হুমকি দেয়া হলেও ওই বিষয়ে কোনো জিডি হয়নি।
আরো জানা যায়, গত ৮ সেপ্টম্বর দুপুরে দুদক কার্যালয়ে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সামনে এমপি এনামুল হককে দুদকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি দাপটের সঙ্গে বলেছিলেন, তার সম্পদ বেড়েছে এতে দোষের কি। তিনি ব্যবসা করেন, তাই সম্পদ বেড়েছে। দুদক তার কিছুই করতে পারবে না।
একে/জেআই





