ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতার কারণেই সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের দক্ষতা ও মানসিকতার অভাবেই পরিস্থিতি এমন হয়েছে। ডেঙ্গু দমনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, ডেঙ্গু দমনে সময় মতো পদক্ষেপ নিলে এমন পরিস্থিতি হতো না। ডেঙ্গু নিধনে মানসিকতা ও দক্ষতার অভাব রয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ সংক্রান্ত শুনানিতে এমন মন্ত্রব্য করেন।

এদিকে শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সারাদেশে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭০৬ জন। এরইমধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দেখে এভাবেই অসন্তোষ জানান হাইকোর্ট।

রোববার প্রতিবেদন তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ইতিপূর্বে আর হয়নি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

সারা দেশে সমস্ত ডাক্তারের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তারা ঈদের মধ্যেও রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। সর্বমহল থেকে এর প্রশংসা করা হয়েছে। ৪০টি হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের চেষ্টা এখনও অব্যাহত।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যে ওষুধ আমদানি করা হচ্ছে এর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সব ওষুধ দ্রুত হাসপাতালে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার সঙ্গে সরকারি আর বেসরকারি হিসাবের কোনো মিল নেই। এমন গরমিল কেন?

আদালত বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

মশার স্প্রে বা কয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মশা নির্মূল চায় না বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। এছাড়া মৃতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের ফারাক প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলেন আদালত।

সে সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে কোনোভাবেই ফাইভ স্টার হোটেল হতে দেয়া যাবে না। সহনীয় পর্যায়ে ফি ধার্য করতে হবে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরাও চাই রোগীরা যেন অতিরিক্ত ফি আদায়ের নামে হয়রানির শিকার না হয়।


এএস