রানা প্লাজার ভবন নির্মাণে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে করা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৮ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার দুদক প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আতোয়ার রহমান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওই দিন ঠিক করেন।

গত ৬ মার্চ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের ধার্য দিনে আদালতের কাছে মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলাটিতে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা , তার বাবা আব্দুল খালেক, মা মর্জিনা বেগমসহ ১৮ জন আসামি। মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার হাজী মোহাম্মদ আলী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক (আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিন) এ টি এম মাসুদ রেজা, প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসাইন, সাভার পৌরসভার মেয়র মো. রেফাতউল্লাহ, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাভার পৌরসভার সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব, পৌরসভার সাবেক সচিব মর্জিনা খান, সাবেক সচিব মো. আবুল বাশার, ফ্যান্টম এপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, নিউ ওয়েব বটমস লিমিটেডের এমডি বজলুস সামাদ ও ইথার টেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সোহেল রানা ও তার বাবা আবদুল খালেক, মা মর্জিনা বেগম রানা প্লাজা নামের একটি বিপণিকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তন্ময় হাউজিং লিমিটেড নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানটি ভবনের দোতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সোহেল রানা ওই প্রতিষ্ঠানকে বিদায় করে দেন। পরে নিজেরাই ছয়তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করেন। বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে সেখানে পোশাকের কারখানা স্থাপন করা হয়। এরপর ছয়তলা ভিত্তির এ ভবনকে ১০ তলা করতে সাভার পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে নয় তলা পর্যন্ত কাজ শেষ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনায় দুদকের উপপরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে দুদকের ওই কর্মকর্তা সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার এজাহার থেকে আরো জানা যায়, নকশাবহির্ভূতভাবে নয়তলা ভবন নির্মাণ, সাভার পৌরসভা থেকে অবৈধভাবে পোশাক কারখানা স্থাপন করার অনুমোদন ও গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করে আসামিরা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

ইআর