রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

প্রায় ছয় মাসের তদন্ত শেষে রোববার বিকেলে রাজশাহীর মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে আট জনকে অভিযুক্ত করে এ মামলার চার্জশিট দেয় মহানগর পুলিশ।

অভিযুক্ত আট জনের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে তিন জন। এছাড়া চার জন কারাগারে রয়েছে। আর অন্যতম অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শরিফুল ইসলাম রয়েছে আত্মগোপনে।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জেএমবির পরিকল্পনায় খুন হন অধ্যাপক রেজাউল করিম। আর এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন অধ্যাপক রেজাউল করিমের ছাত্র শরিফুল ইসলাম।

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া চার জনের মধ্যে রাজশাহী পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে তারেক হাসান ওরফে বাইক হাসান। আর ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মারা গেছে খাইরুল ইসলাম বাঁধন।

তবে শরিফুল এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে আরেক অভিযুক্ত তারেক হাসান বগুড়ায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়।

বগুড়ার শিবগঞ্জের মাসকাওয়াত হাসান ওরফে আব্দুল্লাহ, নীলফামারীর মিয়াপাড়ার রহমত উল্লাহ, রাজশাহী নগরীর নারিকেলবাড়িয়া এলাকার আব্দুস সাত্তার ও তার ছেলে রিপন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তারা সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গত ছয় মাসের তদন্তে যেসব তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে তার ভিতিত্তে অপরাধীদের শাস্তির ব্যাপারে তারা আশাবাদি। পলাতক শরিফুলকে গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এনিয়ে বিচারিক কার্যক্রম ব্যহত হবে না।

নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিমের স্ত্রী হোসনে আরা জানান, তিনি অভিযোগপত্র দেয়ার কথা শুনেছেন। সব অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসার অদূরে সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে।

তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগামারার দরগামারিড়ায়। সেখানে তার একটি গানের স্কুল আছে। প্রথম থেকেই এ হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার দাবি জানিয়েছে আসছিলো পুলিশ।


এমএনজে