রাজধানীতে আটককৃত অজ্ঞান পার্টির ৩১ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান ডিএমপি’র যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম।

গত বুধবার রাতে ঢাকা মহানগরীতে মহানগর পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি পৃথক অভিযান চালায়। অভিযানে ৬টি চক্রের ৩১ সদস্যকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুস ও মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এই শাস্তি প্রদান করেন।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, আটককৃতদের মধ্যে তিনজনকে ২ বছর কারাদণ্ড, ১ জনকে ১ বছর ৯ মাস, ১ বছর ৬ মাস ১ জনকে, ১ বছর করে ১১ জনকে, তিন জনকে ৯ মাস, ৬ জনকে ৬ মাস, ২ জনকে ৪ মাস, ২ জনকে ৩ মাস ও ১ জনকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা হচ্ছে- মিজানুর রহমান পিন্টু (৪২), জলিল বেপারী (৫৫), আব্দুর রশিদ (৪২), বাবু (৩২), কামরুজ্জামান (২৫), জাহিদ (২২), নিয়ামুল হক (২১), খোকন মিয়া (২৩), মোসলেম মোল্লা (৩৫), আলম (২২), মিজানুর রহমান (৪২), শরিফুল (৪৮), সানোয়ার (৩৫), রেজাউল (৪০), ওসমান গনি (২৫), লাল মিয়া (৪৫), গিয়াস উদ্দিন (২৫), মামুন (৪০), শহীদ আহাম্মেদ (২৬), ফেরদৌস (২৫), আবু তাহের (২৮), মোকসেদ মোল্লা (৪০), সুমন (২৩), বাবু (১৮), আব্দুল কাদের (৪০), সুমন (২৫), মাওলা সরদার (২৮), মো. অলি (১৮), আমিনুল ইসলাম (২৫), জনি (১৯) ও শাওন আহম্মেদ(১৮)।

সাজাপ্রাপ্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চেতনানাশক ওষুধ, অজ্ঞান করার জন্য ব্যবহৃত আচার, সিগারেট, বিস্কুট, চা, চায়ের ফ্লাক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের কাছে নিষিদ্ধ ওষুধ সরবরাহ করতো মিজানুর রহমান। মিজানুর ফকিরাপুল এলাকায় গাউসিয়া ফার্মেসির মালিক। ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে ৭২৫টি এটিভেন ট্যাবলেট, ১০টি মাইলাম ট্যাবলেট ও ৬টি ডর্মিকাম ট্যাবলেটসহ তাকে আটক করা হয়। মিজানুর রহমানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ফকিরাপুল থেকে শরিফুল গ্রুপের ৬ জনকে, গুলিস্তান থেকে জাহিদ গ্রুপের ৫ জন, কমলাপুর থেকে জলিল বেপারী গ্রুপের ৪ জন, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে মাওলা গ্রুপের ৫ জনকে ও মিরপুরের কালশি থেকে সুমন গ্রুপের ৪ জনকে আটক করা হয়।

তারা বাস টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন ও ফুটপাতসহ বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীদের অজ্ঞান করে টাকা পয়সা ও মালামাল হাতিয়ে নেয়।

একই অপরাধে জড়িত থাকায় জলিল বেপারী ১১ বার, মিজানুর রহমান ৩ বার, মাওলা ৭ বার, ওলি ৩ বার, শরিফুল ৩ বার, জাহিদ ২ বার ও মনির ৫ বার ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়েছিল।

এমকে, এমএ