থাই এয়ারলাইন্স থেকে আটক অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার হোতা আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম প্রধানের তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান-২ এর একটি বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব।

সোমবার রাত ৯টার পর থেকে গুলশানের ওই বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাবের একটি দল।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের আগে থাই এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাস থেকে সেলিম প্রধানকে আটক করে র‌্যাব। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

র‌্যাব জানায়, আটক সেলিমের বিরুদ্ধে অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া চালানোর অভিযোগ রয়েছে। আটক সেলিম প্রধান বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার সহযোগী।

এরপর সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় র‌্যাব-১-এর একটি দল গুলশান-২-এর ১১/এ রোডের ৯৯ নম্বর বাড়িটি ঘিরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর তারা ভবনটিতে সেলিম প্রধানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে অভিযান চলে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে চলে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে সেলিমকে আটক করা হয়। পরে তাকে র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশানের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।’

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার মূল হোতা সেলিম। তিনি অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার সঙ্গে জড়িত। অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে আয় করা টাকা তিনি বিদেশে পাচার করতেন।

র‌্যাবের অপর একজন কর্মকর্তা জানান, সেলিম প্রধান ‘প্রধান গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই গ্রুপের অধীনে পি২৪ গেইমিং নামের একটি কোম্পানি আছে, যাদের ওয়েবসাইটেই ক্যাসিনো ও অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা রয়েছে।

প্রধান গ্রুপের কোম্পানি জাপান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপার্সের নাম রয়েছে ঢাকা চেম্বারের সদস্যদের তালিকায়। সেলিম প্রধানের অফিসের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে গুলশানে। সেখানেই পি২৪ গেইমিংয়ের অফিস। আর ফেইসবুক পেইজে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেলিম থাকেন থাইল্যান্ডে।

জানা যায়, সেলিম প্রধান দীর্ঘদিন জাপান ছিলেন। বছর দশেক আগে বাংলাদেশে আসেন। হাতিরপুল প্লানার্স টাওয়ারে একটি অফিস নেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যাসিনো কারবারে জড়িয়ে পড়েন।