১০ জুন থেকে সারা দেশে পুলিশের যে বিশেষ ধরপাকড় অভিযান চলছে, আগের দিন ৯ জুন পুলিশের সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সেটাকে ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। পরদিন থেকে অভিযানের ফলাফল জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে যে দৈনিক বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হচ্ছিল, তার শিরোনামেও লেখা ছিল ‘জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান’।
কিন্তু গতকাল বুধবার থেকে হঠাৎই পুলিশ বলছে, চলতি সপ্তাহে শুধু ‘জঙ্গিবাদবিরোধী বিশেষ অভিযান’ নয়, আসলে একসঙ্গে দুটি বিশেষ অভিযান চলেছে। অন্য বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য। এ কারণে জঙ্গিদের পাশাপাশি অন্যান্য মামলার আসামিও বিপুল সংখ্যায় ধরা পড়ছে।
গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে ১১ হাজার ৬৪৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৪৫ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি বলে জানানো হয়। এই কদিন সারা দেশে জঙ্গিদের পাশাপাশি অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্যও জানানো হচ্ছিল। তবে সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে গণধরপাকড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বাহিনীটি। প্রশ্ন ওঠে জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযানের সাফল্য নিয়েও।
এরপর হঠাৎ করেই গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো দৈনিক বিজ্ঞপ্তিতে বদল আনা হয়। গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশের মোট গ্রেপ্তারের তথ্য বাদ দিয়ে শুধু ২১ সন্দেহভাজন জঙ্গি গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়।
গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শেষে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসংক্রান্ত সপ্তাহব্যাপী (৬-১৩ জুন) বিশেষ অভিযান গত সোমবার শেষ হয়েছে।
জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সঙ্গে হঠাৎ নতুন অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, গত সপ্তাহে আসলে একসঙ্গে দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ৬ থেকে ১৩ জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার-বিষয়ক অভিযান চলে। ওই অভিযানের মধ্যেই ১০ জুন থেকে শুরু হয় সপ্তাহব্যাপী জঙ্গিবাদবিরোধী বিশেষ অভিযান। দুটি অভিযান একসঙ্গে চলায় অনেকের মনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে পরোয়ানা তামিলের অভিযান শেষ হওয়ার দাবি করলেও ওই অভিযানে মোট গ্রেপ্তার ও অন্যান্য উদ্ধারের হিসাব জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল আহসান বলেন, কেউ চাইলে অভিযানের আটক-গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান দেওয়া হবে।
এমআইএস





