গত বছরের তুলনায় গত তিন মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর তিন গুণ বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ একক ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ছয় গুণ বেশি। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।

‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি (জানুয়ারি-মার্চ), ২০১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত এ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন। গতকাল প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১০ ব্যক্তি খুন হয়েছেন।

আহত হয়েছেন ৩৬৬ জন। অপহরণের শিকার হয়েছেন ১০ জন। তাঁদের মধ্যে দুটি ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষণের শিকার আটজনের মধ্যে চারজন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৬৫৫টি।

অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে পরিষদের নেতারা বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বিশেষ আইন প্রণয়ন করতে হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক হামলা হয়েছে অভিযোগ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, শুধু ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৫০টি। অপরাধীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত তিন মাসে সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি ও জমিজমা দখলের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি। এর মধ্যে ২২টি সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু পিরোজপুরের একটি গ্রামে ২০টি পরিবারকে দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। ঝালকাঠি ও নীলফামারীতে এক হিন্দু পরিবারকে দেশত্যাগ করতে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, কক্সবাজার, পটুয়াখালী, ফেনী ও জয়পুরহাটে কয়েকজনের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে হিন্দু পরিবারের শ্রাদ্ধ্যানুষ্ঠানে হামলা করেছে একদল সন্ত্রাসী। ঠাকুরগাঁও শহরে জগদীশ চন্দ্রের বাড়িতে হামলা করে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার লোকজন। মার্চে নওগাঁর এক হিন্দু বিধবাকে উচ্ছেদ এবং পিরোজপুরে ক্লিনিক দখল করতে হিন্দু চিকিৎসককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।

পরিষদের নেতারা বলেন, নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন হত্যার শিকার হয়েছেন। হবিগঞ্জ, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও রাঙামাটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, জয়ন্ত সেন, দীপেন চ্যাটার্জি প্রমুখ।

 

এইচ ই