রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিখোঁজ হচ্ছেন, এদের কেউ কেউ ফিরেও এসেছেন আবার অনেকে এখন পর্যন্ত ফিরে আসেনি। ভীতিকর এমন পরিবেশের মধ্যেই এবার মো. নাইমুল ইসলাম সৈকত নামে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ হয়েছেন।

নিখোঁজের পরদিন বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সৈকতের সন্ধান চেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন স্ত্রী তামান্না খান।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, শ্যামলী শাখায় কর্মরত সৈকত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। স্ত্রীকে জানিয়েছেন, তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টার দিকে তামান্নার কথা হয়। এরপর দুপুর আড়াইটা থেকে তার ফোন বন্ধ পায় স্ত্রী। পরে সৈকতের ওই বন্ধু সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সৈকতকে সে কুড়িল পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছেন।

নিখোঁজের পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, মোবাইল ফোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বশেষ দুপুর সোয়া ২টায় সৈকত রাজধানীর নিকেতনে ছিলেন।

সৈকতের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম। রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন। দেড় বছর ধরে তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি করছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কি কারণে নিখোঁজ সেটা এখনই বলা যাবেনা, অপহরণ কিনা তাও নিশ্চিত নই। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করা চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ নিয়ে গত পাঁচ মাসে রহস্যজনকভাবে রাজধানীর ১৪ জন নিখোঁজ হলেন। তাঁদের মধ্যে এ পর্যন্ত দশজনের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এখনও ফিরেননি কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইশরাক আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদাত আহমেদ ও ভিয়েতনামের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান ও গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী।

গত পাঁচ মাসে নিখোঁজের মধ্যে যারা ফিরে এসেছেন তারা হলেন, ব্যাংক এশিয়ার এভিপি শামীম আহমেদ, বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অসিত ঘোষ অসিত, বেলারুশের অনারারি কনস্যুলার অনিরুদ্ধ কুমার রায়, দক্ষিণ বনশ্রীর নকিয়া-সিমেন্সের সাবেক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আসাদ, অ্যাভেনটিস-স্যানোফির ফার্মাসিস্ট জামাল রহমান, শাজাহানপুরের ফল ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন, গুলশানের প্রকাশক তানভীর ইয়াসিন করিম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. মুবাশ্বীর সিজার ও সাংবাদিক উৎপল দাস।