মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা ক্রেস্টের সাড়ে ৭ কোটি টাকার সোনা জালিয়াতির অনুসন্ধানী কার্যক্রম হিমাগারে রেখেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১১ সালের ২৫ জুলাই ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৭ দফায় ৩৩৮ বিদেশী বন্ধুকে সম্মাননা দেয়া হয়।
আর ক্রেস্ট তৈরির নীতিমালা অনুযায়ী এক ভরি সোনা ও ৩০ ভরি রূপার সংমিশ্রনে ক্রেস্ট তৈরির কথা থাকলেও ক্রেস্টে দেয়া হয় মাত্র ৩ আনা সোনা, রূপার বদলে ৩০ ভরি পিতলসহ তামা ও দস্তার মিশ্রনে ক্রেস্ট তৈরি করা হয়। ক্রেস্ট রাখার বক্স তৈরির জন্য ওক গাছের কাঠ ব্যবহারের কথা বলা হলেও তা হয়নি। বিএসটিআইর পরীক্ষায় এ জালিয়াতি ধরা পড়ে। এমিকন ও মেসার্স মহসিন নামক দুটি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার ছাড়াই ক্রেস্ট সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়।
আর এঅভিযোগটি প্রথম দিকে দুদক কর্মকর্তারা বেশ আগ্রহ সহকারে অনুসন্ধান শুরু করেন। কিন্তু অনুসন্ধানকালে সরকারের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপের ফলে দুদক কর্মকর্তারা অনুসন্ধানী কার্যক্রম হিমাগারে জমা রেখেছেন। তবে কবে নাগাদ এ অনুসন্ধান শেষ হবে তা নিয়েো দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলতে পারছেন না।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্ট জালিয়াতির ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র সহকারি সচিব বাদী হয়ে মামলা করে। একই সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটিও করে। এ কমিটি ৮ মে ১৩ ব্যক্তিকে দায়ী করে প্রতিবেদন দাখিল করে। মামলা ও প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দুদকও বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২ জুন দুদক উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম এবং সহকারি পরিচালক শেখ আব্দুস সালামের সমন্বয়ে টিম গঠন করে। দুদকের এ অনুসন্ধানী টিম গত জুলাই মাসে চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বেশকিছু রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন।
এর মধ্যে রয়েছে ক্রেস্ট সরবরাহের দরপত্র, এমিকন ও মেসার্স মহসিন নামক দুই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান, টেন্ডার কমিটির সুপারিশ, বিল-ভাউচার, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত রেকর্ড এবং সম্মাননা প্রাপ্ত বিদেশী বন্ধুদের তালিকা। কিন্তু ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের তালিকা তৈরি করা হয়।
আরো জানা যায়,গত সেপ্টেম্বরে অনুসন্ধান (তদন্ত) কমিটি কমিশনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৩ ব্যক্তিকে তলবের অনুমতি চায়। কিন্তু কমিশন অনুমতি তাদেরকে তলব করার অনুমতি দেয়নি।
আর তলবি নোটিশের তালিকায় ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:) এ বি তাজুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিজানুর রহমান, স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, ক্রেস্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) গোলাম মোস্তফা, অবসরে পাঠানো যুগ্ম সচিব মোঃ আবুল কাসেম তালুকদার, উপ-সচিব এনামুল কাদের, সিনিয়র সহকারী সচিব (ওএসডি) মোঃ বাবুল মিঞা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিরীক্ষক আনিসুর রহমান, সুপারিনটেনডেন্ট আমিনুর রশিদ, নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বেগম জেসমিন আক্তার, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বেগম জাহানারা পারভীন, সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান এবং সাঁট মুদ্রাক্ষরিক আবুল কাসেম। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের তালিকাভুক্তদের তলবি নোটিশ পাঠাতে না পেরে অনুসন্ধান থেমে যায় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
একে,