জামানত ছাড়াই অনিয়মের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখাসহ অন্যান্য শাখা থেকে ৬২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক মেসার্স ইফাদ মাল্টি-প্রোডাক্টস লিমিটেডকে অর্থায়ন করেছে। মেসার্স ইফাদ মাল্টি-প্রোডাক্টস গম আমদানির লক্ষ্যে মেসার্স ইফাদ এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, লোকাল প্রিন্সিপাল অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় ঋণপত্র স্থাপন করে।

কৃষি ব্যাংকের কারওয়ান বাজার কর্পোরেট শাখা, বনানী কর্পোরেট শাখা, লোকাল প্রিন্সিপাল অফিস ঢাকা, চট্টগ্রাম কর্পোরেট, আগ্রাবাদ ও কুষ্টিয়া শাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল পরিদর্শন চালিয়ে এসব অনিয়ম খুঁজে পায়।

সূত্র মতে, সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ পরিচালক মো. মফিদুল ইসলামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং সুপারিশের উপর ভিত্তি করে কৃষি ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখাসহ অন্যান্য শাখা থেকে ৬২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ঋণ জালিয়াতি ও ঋণ বিতরণের অভিযোগটি নথিভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জানা যায়,২০১২ সালে ওই অভিযোগটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অনুসন্ধানের জন্য দুদক কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালে উপ পরিচালক মো. . মফিদুল ইসলামের অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু করে।
২০১৪ সালের তিনি সুপারিশসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করেন।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়; জামানত ছাড়াই অনিয়মের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখাসহ অন্যান্য শাখা থেকে ৬২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের অভিযোগের প্রমানাদি মেলেনি। এমতা অবস্থায় ওই অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুপারিশ রেখেছেন।

২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কমিশন উপ পরিচালক মো. মফিদুল ইসলামের সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে ওই অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন।

অথচ অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক খেলাপি ঋণ থাকা সত্ত্বেও বড় অংকের ঋণ সুবিধা দিয়েছে তাদের গ্রাহকদের। একইভাবে কর্পোরেট গ্রাহকের অনুকূলে ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদন আবশ্যক হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয়নি। শাখা ব্যবস্থাপকরা ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে ব্যাংকের নীতিমালা উপেক্ষা করে ঋণপত্র স্থাপন করেছেন।

আর এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ওই ৬টি শাখা। আর শাখাগুলোর নিয়ম ভাঙায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৬২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ক্ষতি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়ার সহায়তায় ইফাদ মাল্টি-প্রোডাক্টস অ্যাকোমোডেশন বিল সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণ সুবিধা ভোগ করছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া ঋণের ব্যবহার যথাযথভাবে মনিটরিং করেনি। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরিপন্থী।

মেসার্স পদ্মা ফেব্রিকস লিমিটেড ও মেসার্স পদ্মা ব্লিচিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড ২৭ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা গুণগতমানের ভিত্তিতে মন্দ ও ক্ষতিজনক হওয়ায় শ্রেণীকরণ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কৃষি ব্যাংকের কারওয়ান বাজার কর্পোরেট শাখা থেকে মেসার্স ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিংকে ৪২০ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে। বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩২১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ ঋণ সুবিধার জন্য যে পরিমাণ সহায়ক জামানত নেয়া হয়েছে তা দিয়ে শুধু ৫০ কোটি টাকার ফান্ডেড ঋণ সুবিধা আবৃত করা হয়েছে। নন-ফান্ডেড ঋণ ২৬০ কোটি টাকার সুবিধার বিপরীতে কোনরূপ সহায়ক জামানত নেয়া হয়নি।

একে/জেএ