অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে মীর কাসেম আলী বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
লবিস্ট ফার্মের রশিদ বিচেনায় নিয়ে রায়ে আদালত এমন কথা বলেছেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
সোমবার মীর কাসেম আলীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মাহবুবে আলম বলেন, মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দেওয়া রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রসিকিউটরদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত।
তিনি বলেন, লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে শুনানির সময় একটি কাগজ দাখিল করেছিলাম। আদালত বলেছেন বিচারবন্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন কী করেননি সেটা প্রমাণসাপেক্ষ। তবে লবিস্টদের দেওয়া রশিদ বিবেচনায় নিয়ে বলেছেন মীর কাসেম আলী খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিচারকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
তিনি বলেন, মীর কামেস আলী যদি রিভিউ আবেদন না করেন তবে নিয়ম অনুযায়ী কারাকর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে।
তিনি বলেন, তবে এই ক্ষেত্রে রিভিউ আবেদন করার জন্য তাকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আজই ট্রাইব্যুনালে যাবে।
এরপর ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে। পরে মীর কাসেম আলীকে রায় পড়ে শোনানো হবে।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে মাহবুবে আলম বলেন, এই রায় আজকে (সোমবার) প্রকাশিত হয়েছে। এখন এটার সার্টিফাইড কপি আসামিপক্ষ যদি নেয়, তার ১৫ দিনের ভিতরে তাকে রিভিউ পিটিশন দায়ের করতে হবে।
আজই ট্রাইব্যুনাল থেকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এই রায়ের কপি পাঠানো হবে এবং মীর কাশেম আলীকে এই রায় সম্বন্ধে অবগত করানো হবে। রিভিউ দায়ের করলে এই অবগত হওয়ার ১৫ দিনের ভিতরে দায়ের করতে হবে। রিভিউ পিটিশনের রায়ের উপরই নির্ভর করবে তার দণ্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী কার্যক্রম।
তবে রিভিউতেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলেই বিশ্বাস অ্যাটর্নি জেনারেলের।
তিনি বলেন, আসামিপক্ষ রিভিউ করতে পারে। আমার মনে হয় রিভিউ পিটিশনের স্কোপ খুবই সীমিত। কাজেই ফৌজদারি মামলায় বিশেষ করে রিভিউর উপর খুব বেশি একটা লাভ যে হয় এটা আমার জানা নাই। তবে তারা ফাইল করলে আমরা রিভিউ পিটিশন কনটেস্ট করব।’
মাহবুবে আলম বলেন, এটা আমাদের জন্য সফলতা যে টাকা থাকলেই যে আইনের হাত থেকে বা বিচারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। মীর কাশেম আলীর বিচারের মধ্য দিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, আইনের শাসন বা বিচার বিভাগের রায়টাই প্রধান। একটা লোক যতোভাবেই বানচাল করার চেষ্টা করুক, আমরা আদালতের মর্যাদা যদি ঠিকমতো রাখতে পারি তাহলে সব বিচারই হবে।’
ওএফ





