জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের অনুলিপি এখনো পাননি তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার বেলা পোনে পাঁচটার দিকে কামারুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে জানান, তারা এখনও রায়ের কপি হাতে পাননি।
কামারুজ্জামানের এই আইনজীবী আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হবে এবং সেই কপি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে এবং আমরাও পাব।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হওয়ার আগে ফাঁসি কার্যকর করার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না-জানতে চাইলে শিশির মনির আরও বলেন, কামারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যরা গতকাল সাক্ষাৎ করেছেন। বড় ছেলে হাসান ইকবালের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, রায়ের কপি পাওয়ার পর তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হবে কি না-এ বিষয়ে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, রায়ের কপি বের হলে তারা সেটা নিয়ে আইনজীবীদের সাথে আরেক দফা পরামর্শ করবেন পরবর্তী করণীয় নিয়ে।
ওয়ামী বলেন, গতকাল বিকেলে কারাগারে তার বাবার সাথে সাক্ষাতের পর আজ বিকেল পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা কোন চিঠিপত্র পাননি।
কামারুজ্জামানের বড় ছেলে আরও বলেন, তার বাবাকে জেলখানায় অত্যন্ত দৃঢ়চেতা অবস্থায় দেখেছেন। তার বাবা দেশের তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অধ্যয়নেরও আহবান জানিয়েছেন।
দেশের তরুন ও শিক্ষিত প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে একদিন অবশ্যই জানতে পারবেন তাদের ওপর কতটা অবিচার করা হয়েছে-কামারুজ্জামান এমন মন্তব্য করেছেন বলেও জানান ওয়ামী।
ওয়ামী বলেন, তার মা সহ পরিবারের সদস্যরা সবাই সুস্থ আছেন। তারা কেউ বিচলিত নন। পরিবারের সদস্যরা কামারুজ্জামানের জন্য দেশবাসীর দোয়া চান।
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেয়া রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদন গতকাল সোমবার আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন।
আপিল বিভাগের এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারের সর্বশেষ ধাপ পার হয়েছে। এখন শুধু তাঁর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একাত্তরে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে ১৪৪ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিপক্ষ।
গত বছরের ৩ নভেম্বর সোহাগপুর হত্যাকাণ্ডের দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে ৫ মার্চ তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। এরপর দুই দফা শুনানি পেছানোর পর গত রোববার আপিল বিভাগে ওই আবেদনের শুনানি হয়।
পরে রায় ঘোষণার জন্য গতকাল দিন ধার্য করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল সকাল নয়টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসন নেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
কার্যতালিকার প্রথমে থাকা পুনর্বিবেচনার আবেদনের রায় ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ডিসমিসড (খারিজ)’।
কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল রাখার প্রতিবাদে ও তাঁর মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার ও কাল বুধবার সারা দেশে দুই দিনের হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী।
এমকে





