পবিত্র রমজান এবং কোরবানী ঈদকে সামনে রেখেই জাল টাকা তৈরি সিন্ডিকেটের সদস্যরা সক্রিয় হয়। ঈদকে সামনে রেখে এক থেকে পাঁচ কোটি জাল টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। তারা মূলত বিভিন্ন জেলা এবং গ্রামে এগুলো সাপ্লাই করে থাকে। এমনটিই বলছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জাল টাকা তৈরির ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের বিষয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. হাওলাদার সোহেল, মো. মাজহারুল ইসলাম, মো. আলামিন, মো. আরিফ আরমান ওরফে নিপু, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. সোহেল মিয়া। শনিবার রাতে শেরে বাংলানগর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা ঈদকে সামনে রেখেই জাল টাকা তৈরি সিন্ডিকেটের ১২ জনের একটি দল সক্রিয় হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে জাল ৪০ লাখ টাকা, ৮টি জাল টাকা তৈরির ফ্রেম, ২টি ল্যাপটপ ও প্রিন্টার, ৮টি জলছাপ দেয়া ১ হাজার বান্ডেলসহ ৭০ লাখ টাকা মূল্যমানের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা মো. হাওলাদার সোহেল ৬/৭ বছর ধরে জাল টাকা তৈরির ব্যবসার সাথে জড়িত। সে শেরে বাংলানগর এলাকার কবর স্থান গলির ৫ তলার ফিরোজ সাহেবের বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরির কারখানা স্থাপন করে বিভিন্ন জেলাতে তারা জাল টাকা বিক্রয় করতো।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত চক্রের মূলহোতা হাওলাদার সোহেল ইতিপুর্বে দু'বার ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে এসে আবার এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, জাল টাকা তৈরির সিন্ডিকেটরা মূলত দেশের বিভিন্ন জেলাতে এজেন্টের মাধ্যমে জাল টাকা বাজারজাত করে। ঈদ, পুজা এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তারা এই টাকা বাজারজাত করে থাকে।

জাল টাকা তৈরীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে যুগ্ম কমিশনার বালেন, তারা ইতিমধ্যে ৬০ লাখ টাকা মূল্যের জালটাকার নোট বাজারে ছেড়েছে। তাদের মূল টার্গেটে থাকে বছরের বড় দু'টি ঈদ। ঈদকে সামনে রেখেই তারা জাল টাকা তৈরী করে। জাল টাকা ছাড়তে তাদের টার্গেটে থাকে গ্রাম এলাকা। প্রতিটি জেলাতে তাদের সিন্ডকেট রয়েছে। এদের মাধ্যমে তারা জাল টাকা বাজারে ছাড়ে।

তিনি আরো বলেন,  এছাড়াও তাদের কাছ থেকে জাল টাকা তৈরীর যেসব কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে তা দিয়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের জাল টাকার নোট ছাপাতে পারতো। এক লাখ জাল টাকা বিক্রি হয় ১২ হাজার টাকায়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, এই চক্রে ১২ জন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছি। বাকী পলাতক ছয়জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবো এবং বাজারে যে ৬০ লাখ টাকা ছেড়েছে সে সম্পর্কেও জানা যাবে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই জাল টাকা তৈরির ১৫টি সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে। এদের সাথে কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা জড়িত বয়েছে বলেও জানান তিনি।

এমআর/ এআর