১০ লাখ টাকারদাবিতে নিজের মায়ের মামাতো বোন কর্তৃক অপহৃত হয় ৬ বছরের শিশু আরাফাত হোসেন শান্ত। অপহরণের পর র‌্যাব ও পুলিশকে জানানো হলে শিশু শান্তকে হত্যা করা হবে হলেও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। অপহৃতের মা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে নিজের মামাতো বোন তার ছেলেকে অপহরণ করতে পারে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন, র‌্যাব-৪ এর সিও শাহাবুদ্দিন খান।

১১ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর-১৩ থেকে অপহৃত হয় শিশু আরাফাত হোসেন শান্ত (৬)। এঘটনায় বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-৬ এর একটি বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে র‌্যাব-৪ এর সদস্যরা। এসময় চার জনকে আটক করছে র‌্যাব।

আটকরা হলেন, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী ও শিশুর মামাতো খালা আসমা সুলতানা ওরফে ছন্দা (১৮), হাসান ওরফে শাওন (২০), মো. গোলাম মোস্তফা (২০) ও আয়েশা আখতার তামান্না (২৮)।

র‌্যাব-৪ পরিচালক (সিও) শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ১১ নভেম্বর বিকেল পাঁচটায় শান্তকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার দিন রাতেই অপহরণকারীরা ফোন করে শান্তর পরিবারের কাছে বিষয়টি জানান। পরদিন দুপুরে অপহরণকারীরা ওই পরিবারের কাছে আবারও ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

শান্তর পরিবার বিষয়টি র‌্যাবকে জানায়। র‌্যাব-৪-এর একটি দল গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে শান্তকে উদ্ধার করে। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক হওয়া চার অপহরণকারীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

অপহরণের মূল হোতা আসমা সুলতানা ওরফে ছন্দার সহযোগী খালাতো বোন লিমা(২২) পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অপহৃত শিশুর মা রিনা বেগম জানান, ছেলে শান্ত অপহরণের শিকার হয় বিকেল ৫টার দিকে। সে সময় অনেক খোজাখুজির পরও না পেয়ে কাফরুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। পরে শান্তের বাবা আব্দুস সাত্তার বিষয়টি র‌্যাব-৪ কে অবগত করেন।

মা রিনা বেগম বলেন, 'নিজের মামাতো বোন হয়েও ছন্দা যে আমারই সন্তানকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারি নি।

তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক ছেলে অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

জেইউ/ এআর/এসএইচ