বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)’র ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের ৩ মামলায় সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে।

রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকে) উপ পরিচালক যতন কুমার রায় সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই ৫ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট অনুমোদনের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব (বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান) আবু বকর সিদ্দিক, ওএসডি অতিরিক্ত সচিব (বিপিসির সাবেক সচিব) আনোয়ারুল করিম, সাবেক চেয়ারম্যান একেএম জাফরউল্লাহ, সাবেক চেয়ারম্যান মেজর  (অব:) মুক্তাদির আলী এবং ডিএমডি আব্দুল আউয়াল।

একই সঙ্গে ৮ জনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ৮ জন হলেন, বিপিসি’র ডিএমডি মনিলাল দাস, উপ-ব্যবস্থাপক (অর্থ) জাহাঙ্গীর হোসেন,  মোঃ নূরুল ইসলাম, জেনারেল ম্যানাজার (হিসাব) গিয়াসউদ্দিন আনসারি, ডিএমডি মহিবুর রহমান, ডেপুটি ম্যানেজার জাকির হোসেন, সাবেক পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সাবেক চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফউদ্দিন আহমেদ। 

জানা যায়,  ওশান লস (সমুদ্রে পরিবহণজনিত লোকসান) কম-বেশি দেখিয়ে বিপিসির এসব সাবেক কর্মকর্তারা তিন বছরে পৌনে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৬ অক্টোবর দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক আলী আকবর খান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থানায় মামলা করেন।

৩ মামলায় মামলায় আনুমানিক পৌনে ৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে- মর্মে উল্লেখ করা হলেও তদন্তে যথাক্রমে ৭১ কোটি ২৩ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৮৯ টাকা,  ৫০ কোটি ১৮ লাখ ৮২৪৭৭ টাকা এবং ২৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭২ হাজার ১৯৪ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে-মর্মে প্রমাণিত হয়।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,  আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের বিপরীতে বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি ১৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেছে। ওশান লস (সমুদ্রে পরিবহণজনিত লোকসান) কম-বেশি দেখিয়ে বিপিসি কর্মকর্তারা লোকসান দেখিয়ে তিন বছরে হাতিয়ে নেন এ অর্থ। 

২০০৪ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ১০ বছরে বিপিসি ওশান লস দেখিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা অর্থ আত্মসাত করেছে। তিন বছরে হাতিয়ে নিয়েছে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে গত অক্টোবরে তদন্ত শুরু করে দুদক।

এদিকে অনুসন্ধান ও তদন্তকালে গত ৮ মাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারিকে। তথ্য-প্রমাণ এবং তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই প্রণীত হয় প্রতিবেদন। তবে এ প্রতিবেদনে শুধু ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দেয়া ওশান লসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকের জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে তদন্ত এতে প্রাসঙ্গিকতা পায়নি বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালের ২৭ জুন বিপিসির ৩৫৬তম সভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয় যে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওশান লস ০.৫ এর পরিবর্তে ০.৩ % গ্রহণযোগ্য হবে। অর্থাৎ ওশান লস এর  বেশি বা কম  হলে তা বিপিসি গ্রহণ করবে না।

এ সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় ২০০১-২০০২ সালের দিকে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করে বিপিসি। তখন চুক্তি হয়, তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে তেল পৌঁছে দেবে। কিন্তু তারা০.৩% এর স্থলে ০.৬% জ্বালানি তেলের মূল্য অতিরিক্ত পরিশোধ  দেখিয়েছে। অথচ পরিশোধিত মূল্য অনুসারে সে পরিমাণ জ্বালানি তেল বুঝে পায়নি বিপিসি।

ঢাকা,একে,২৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর