এবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়কে ‘হাওয়া করে’ ফেলার হুমকি দিয়েছে রাজশাহীর সরকারদলীয় এমপি এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাস।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় এনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী মোবাইল ফোনে এ হুমকি দেন। যতন কুমার রায় এ বিষয়ে রাজধানীর রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৭৭৭) করেছেন।

ডায়েরিতে তিনি উল্লে­খ করেন, রাজশাহী-৪ এর এমপি এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাস তার মোবাইল (নম্বর ০১৬৭৭০৭২১১১) ফোন থেকে আমার (যতন কুমার) মোবাইলে (নম্বর-০১৬৮৭৭১১২৭৯) ফোন করে জানতে চান যে, এমপি এনামুল হক ও তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কি অবস্থা।

জবাবে আমি কাঞ্চনকে জানাই যে, কিছূ কাগজপত্র পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। সেগুলো পেলে ব্যবস্থা নেবো। তখন কাঞ্চন দাস আমাকে বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের উপর মহল এবং কমিশন এনামুল সাহেবের পক্ষে। শুধু আপনি তারপক্ষে রিপোর্ট দিলেই হয়।

আমি জানাই যে, রেকর্ডপত্রে যা পাবো তাই রিপোর্টে থাকবে। তার বাইরে কিছু থাকবে না। কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক।

তখন কাঞ্চন বলেন, এমপি সাহেব আপনার প্রতিবেদনে যেন কোম্পানি ও ব্যক্তিকে এক করে দেখানো না হয়। আমি বলি, অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ‘দ্য প্রিপারেশন অব দিস ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস ইজ দ্য রেসপন্সিবিলিটি অব দ্য কোম্পানিস ম্যানেজমেন্ট’। এ ক্ষেত্রে এনামুল হক সাহেবদের দায়-দায়িত্ব রয়েছে।

যতন কুমার বলেন, তাকে জানাই, নেট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু আপনারা আয়কর দিয়েছেন ৮৭ লক্ষ টাকা। যা অবাস্তব। তখন কাঞ্চন দাস বলেন, এমপি সাহেব বলেছেন আপনার প্রতিবেদনে যেন মামলার সুপারিশ না থাকে। মামলার সুপারিশ থাকলে হাওয়া হয়ে যাবেন।

আমি বলি, হাওয়া হয়ে যাবো ! জিডিতে যতন কুমার উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেও কাঞ্চন দাস মোবাইল ফোন ও সরাসরি এ ধরণের হুমকি প্রদান করেছেন। কয়েকদিন আগে আমাকে হাইজ্যাক করার ফাঁদ সৃষ্টি করা হয়েছিলো।

অভিযোগটি অনুসন্ধানকালে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রিপোর্ট প্রায় প্রস্তুত।

উপরোক্ত ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, আমি স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন দাখিল করলে এনামুল হক এবং তার অফিসের কর্মকর্তা কাঞ্চন দাস যে কোনো সময় আমাকে বা আমার পরিবারের সদস্যদের গায়েব করে দিতে পারে। কিংবা যেকোনো ধরণের ক্ষতি সাধন করতে পারে।

সাধারণ ডায়েরি পর যতন কুমার রায় সাংবাদিকদের বলেন, এমপি এনামুল হকের লোক আমাকে হাওয়া করে দেয়ার হুমকি দিয়েছি। বিষয়টি আমি দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনার ও মহাপরিচালক মহোদয়কে জানিয়েছি। তারা আমাকে জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন।

উল্লে­খ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে আরেকজন উপ-পরিচালককে হত্যার হুমকি দেয়া হলেও ওই বিষয়ে কোনো জিডি হয়নি।

গত ৮ সেপ্টম্বর সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুদকের উপপরিচালক রতন কুমার রায় এমপি এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই দুদক কার্যালয়ের সামেন অপেক্ষমান সাংবাদিকদেও সামনে দুদকে চ্যালেঞ্জ করেছে এমপি এনামুল হক।

তিনি দাপটের সঙ্গে বলেন, তার সম্পদ বেড়েছে এতে দোষের কি। তিনি ব্যবসা করেন, তাই সম্পদ বেড়েছে। দুদক তার কিছুই করতে পারবে না।

জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট দুদকে তলব করার পর এমপি এনামুল একদিন আগে ২৫ আগস্ট পত্র বাহকের মাধ্যমে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৩০দিনের সময় চেয়ে আবেদনপত্রটি জমা দেন দুদকে ।

 ঢাকা, একে, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ